মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বিচারহীনতার সংস্কৃতিই নির্বাচনী সহিংসতার অন্যতম কারণ’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
অধিকার ও ইপিডি’র যৌথ আয়োজনে সিরডাপ মিলনায়তনে “২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে প্রভাব” শীর্ষক এক আলোচনা সভা
expand
অধিকার ও ইপিডি’র যৌথ আয়োজনে সিরডাপ মিলনায়তনে “২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে প্রভাব” শীর্ষক এক আলোচনা সভা

২০২৬ সালের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতার প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এর চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) অধিকার ও ইপিডির যৌথ আয়োজনে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে প্রভাব’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অধিকার-এর পরিচালক তাসকিন ফাহমিনার সঞ্চালনায় সভায় নির্বাচনী সহিংসতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে অধিকার-এর পক্ষ থেকে ইপিডির সহযোগিতায় পরিচালিত নির্বাচনী সহিংসতা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোরবান আলী।

সূচনা বক্তব্যে তাসকিন ফাহমিনা বলেন, অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৬-এর জুন পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় বাংলাদেশে ৬০৯১ জন নিহত ও ২,৫৩,০৪০ জন আহত হন। সভায় ইপিডি’র প্রকল্প পরিচালক এনাসথেসিয়া উইবাওয়া বলেন, এই প্রতিবেদনের তথ্য ও সুপারিশ যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলে তা আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। আলোচনা সভায় বক্তাদের বক্তব্যের মধ্যে যেসব বিষয় উঠে আসে, সেগুলো হলো, যেসব রাজনীতিবিদ একমাত্র রাজনীতিকেই তাদের পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে, তাদের মধ্যে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন আইববহির্ভূত পন্থায় অর্থ উপার্জনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সংসদ সদস্যদের অনেকেই ব্যবসায়ী হওয়ায় জনকল্যাণের চেয়ে মুনাফা অর্জনের দিকেই তাদের মনযোগ বেশি। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চার পারফরম্যান্স নির্ধারণের জন্য স্কোরকার্ড করার ওপরও বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া, রাজনৈতিক দলগুলো যদি ফ্যাসিস্ট মানসিকতা পরিহার করে গণতান্ত্রিক মানসিকতাকে ধারণে না করে, তাহলে রাষ্ট্রের গণতন্ত্রায়ণ অসম্ভব বলে সংলাপে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

নির্বাচনে দলীয় এজেন্ট নিয়োগ ব্যবস্থার সমালোচনা করে নির্বাচনে দলীয় এজেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে নির্বাচন ম্যানিপিউলেশনের সুযোগ নেওয়া হয় বলে সভায় মতপ্রকাশ করা হয়। সে কারণে দলীয় এজেন্ট নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিলেরও আহ্বান জানানো হয়।

রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়ায় না এনে আক্রান্তদের হয়রানির মাধ্যমে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা নির্বাচনী সহিংসতা টিকে থাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

বক্তাদের কথায় আরো উঠে আসে যে, নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রয়োজনীয় সংস্কার, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ, পোস্ট ইভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়া চালু করা, ভোটার শিক্ষার প্রসার, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং আচরণবিধি শক্তিশালী করার মাধ্যমে মতামত গ্রহণ করা জরুরি।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে বিএনপি প্রায় দেড় হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা দলটির গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতিফলন।

সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান ও মারদিয়া মমতাজ, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু; এনসিপি’র অঙ্গ সংগঠন 'জাতীয় নারীশক্তি'-র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন এস মুরশিদ।

এছাড়া, প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এবি পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল আলীম।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন