

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাইকে রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পর ভাগবটোয়ারা করে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘জুলাইকে আমরা রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাগবটোয়ারা করে ফেলেছি। বিএনপির ভাগ কত, এনসিপির ভাগ কত, জামাতের ভাগ কত- এভাবেই জুলাইয়ের স্টেক ভাগাভাগি হয়েছে এবং হচ্ছে।’
শুক্রবার (৭ আগস্ট) মধ্যরাতে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টের শুরুতেই সালাম জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবাইকে জুলাই বিপ্লবের শুভেচ্ছা। শহীদ কর্নেল গুলজার, শহীদ রেহান আহসান, শহীদ আবরার ফাহাদ, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ তাহির জামান প্রিয়, শহীদ রিয়া গোপ, শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর রক্ত-ঘামে অর্জিত এই আজাদী আশা করি সবাই উপভোগ করছেন।’
জুলাই অভ্যুত্থানকালের স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই একটা জিনিস ভাবছিলাম। জুলাইয়ে আমার জন্য দোয়া করেছিল, আমার জন্য স্ট্যাটাস দিয়েছিল, আমার মুক্তির জন্য গান গেয়েছিল, ছবি এঁকেছিল এমন অনেক মানুষ যাদেরকে আমি চিনি না। রাস্তায় পানির বোতল এগিয়ে দেয়া খুদে ব্যবসায়ী, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া রিকশা- ভ্যান চালক, পুলিশের চোখ এড়িয়ে হাসপাতালে আহত ভাইদের চিকিৎসা দেওয়া ডাক্তার, এমন অনেক মানুষ যাদের আমি চিনি না। যেই ছেলেটা প্লেস্টেশন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির বাইরে কিছু বোঝে না, যে মেয়েটার জীবন কিয়োশি থেকে ক্রিমসন কাপ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, যারা কখনো সরকারি চাকরি করার কথাই ভাবেনি, বিএএফ শাহীন কলেজের যেই শহীদ আহনাফের ছাত্র রাজনীতি করারও বয়স হয় নাই, সেই ছেলেমেয়েরা জুলাইয়ে আবাবিল পাখির মত নেমে এসে আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছে।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘কিন্তু জুলাইয়ের পর এদের বেশিরভাগই ঘরে ফিরে গেছে। তারা কোন রাজনৈতিক দলেই নাই। জুলাইকে আমরা রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাগবটোয়ারা করে ফেলেছি। বিএনপির ভাগ কত, এনসিপির ভাগ কত, জামাতের ভাগ কত- এভাবেই জুলাইয়ের স্টেক ভাগাভাগি হয়েছে এবং হচ্ছে।’
তিনি যুক্ত করেন, ‘কিন্তু জুলাই তো শুধু রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ছিল না। জুলাই ছিল সর্বস্তরের সব মানুষের। এপলিটিকাল জনগোষ্ঠীর। আই হেট পলিটিক্স জনগোষ্ঠীর। সুইং ভোটার জনগোষ্ঠীর। সবার। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া জুলাই কখনো জুলাই কখনো সফল হতো না। অথচ কাউকেই এখন আর মিছিল-মিটিঙে পাওয়া যায় না। সভা-সেমিনারে পাওয়া যায় না। কোন সংবর্ধনার আয়োজন করলেও তারা আসেন না। তারা ঘরেই থাকেন।’
জুলাইয়ের পর একদম খালি হাতে ঘরে ফিরে যাওয়া এই মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দায় স্বীকার করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘গত দুই দিন যতটা সম্ভব কৃতজ্ঞতা বার্তা পাঠিয়েছি। অনেকে হয়ত আমার সেই ম্যাসেজ পেয়েছেন। আবার অনেকেই স্প্যাম ফোল্ডারে ম্যাসেজটা চলে যাওয়ার জন্য হয়ত খেয়াল করেন নাই। আবার অনেকের ম্যাসেজ অপশন বন্ধ থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ম্যাসেজ করতে পারি নাই।আমার ইচ্ছা বাংলাদেশের ষোল কোটি বিপ্লবীকেই টেক্সট করা, তাদের সাথে হ্যান্ডশেক করা, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো। কিন্তু মানবিক সীমার কারণে চাইলেও সবার সাথে যোগাযোগ করা সঙ্গত কারণেই সম্ভব না উল্লেখ করে ক্ষমাপ্রার্থণা করেন। পোস্টে তিনি সর্বস্থরের মানুষের কথা উল্লেখ করে বলেন, সবাই জুলাইয়ের মালিক। জুলাইয়ের রচয়িতা। তাদের সবাইকে আমি ম্যাসেজ পাঠাতে পারি নাই। তবে আপনাদের প্রত্যেককে আমি ফিল করি। যারা যারা আমার ম্যাসেজ পান নাই তাদের সবার প্রতি আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। কিন্তু নিশ্চিত থাকুন, আমি আপনাদের ভুলে যাই নাই।’
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের পর আমাদের বহু স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। আপনাদের প্রত্যাশার পরিবর্তনও এখনো অনেক দূরে। আমি স্বীকার করছি, আমাদের প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে বিশ্বাস করুন, আমরা চেষ্টা করেছি। বহুপক্ষীয় বাধার কারণে অনেক কিছুই অর্জন করতে পারিনি। আমরা আমৃত্যু নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জারি রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমাদের ওপর ভরসা রাখুন।’ পোস্টের শেষে তিনি, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাধ্যমতো চেষ্টা করার এবং দেশ-জাতির যেকোনো প্রয়োজনে আবারও সরব হওয়ার আহ্বান জানান।