

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত হয়েছিলেন, সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে বৈঠকের সময় কক্ষে থাকা টেলিভিশনের পর্দায় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সংবাদ দেখেই তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হন।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘ওয়াকার ভাইয়ের পেছনের দেয়ালে টেলিভিশন চলছিল। হঠাৎ দেখি দেখাচ্ছে, শেখ হাসিনা বিমানে করে চলে যাচ্ছেন। হয়তো আগেই গিয়েছিলেন, কিন্তু যখন দেখাচ্ছিল, তখন বোধ হয় সাড়ে তিনটা হবে। আমি বললাম, শেখ হাসিনা তো চলে যাচ্ছেন! ওয়াকার ভাই একটু বিস্মিত হয়ে পেছনে ঘুরে টেলিভিশনের দিকে তাকালেন। বললেন, “চলে গেছেন!” উনি হয়তো জানতেন যে হাসিনা চলে যাবেন। কিন্তু ঠিক তখনই যাবেন বা তাঁকে জানিয়ে যাবেন কি না, আমি জানি না।’
জাতির উদ্দেশে সেনাপ্রধানের দেওয়া বক্তব্য সম্পর্কে আগে কিছু জানতেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, সেনাপ্রধান বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। তবে ‘অন্তর্বর্তী সরকার গঠন’ প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমি ওয়াকার ভাইকে বলেছিলাম, আপনি এটা পরিষ্কার করেন যে শেখ হাসিনা এখন আর নেই, সবাই যেন শান্ত হয়। এরপর কী হবে, সেটা ছাত্ররা ও রাজনীতিবিদেরা বসে ঠিক করবে।’
আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে যে বলেছিলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছি”, এ বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে সরাসরি কথা হয়নি। সত্যি বলতে, সেখানে প্রায় ২০ জন রাজনীতিবিদ ছিলেন। আমি একমাত্র সিভিল সোসাইটির সদস্য ছিলাম। তাই খুব বেশি কথা বলতে আমার অস্বস্তি লাগছিল।’
সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শেখ হাসিনার দেশত্যাগ সম্পর্কে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাননি। টেলিভিশনে সরাসরি সেই দৃশ্য দেখেই প্রথম বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং সেনাপ্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।