

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মেক্সিকোর জনপ্রিয় টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর সিজার গাস্তেলুম লাইভ সম্প্রচারের সময় সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর কুলিয়াকানের ত্রেস রিওস এলাকায় একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর বাইরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় দুই বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও ধারণ করে টিকটকে লাইভ করছিলেন সিজার। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে দুই হামলাকারীর একজন খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ সিজার ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হাস্যরসাত্মক ভিডিওর মাধ্যমে টিকটকে পাঁচ লাখেরও বেশি অনুসারী গড়ে তুলেছিলেন সিজার গাস্তেলুম। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করছেন।
ঘটনার সময় সিজার ও তার বন্ধুদের গায়ে ডেলিভারি কর্মীদের ব্যবহৃত উজ্জ্বল কমলা রঙের জ্যাকেট ও ব্যাগ ছিল। এ কারণে প্রথমে পুলিশ নিহত ব্যক্তিকে একজন ডেলিভারি কর্মী বলে মনে করেছিল। পরে তদন্তে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফরেনসিক দল দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। আলামত হিসেবে কার্তুজের খোসা সংগ্রহ করা হয় এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে হামলার পর মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মেক্সিকোতে লাইভ সম্প্রচারের সময় ইনফ্লুয়েন্সার হত্যার ঘটনা নতুন নয়। গত বছর ২৩ বছর বয়সী ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেরিয়া মার্কেজকে একটি বিউটি পার্লারে টিকটক লাইভ চলাকালীন গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, সিজার গাস্তেলুম আগে কোনো ধরনের প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণ, নৈশকালীন অনুষ্ঠান এবং বিলাসবহুল গাড়ির সঙ্গে তোলা বিভিন্ন ছবি নিয়মিত প্রকাশিত হতো।
এদিকে, তার একটি পোস্টে নিহত ইনফ্লুয়েন্সার লে আবার্দো আইসপুরোর কবরের সামনে তাকে দেখা যায়। ‘এল গোর্ডো পেরুসি’ নামে পরিচিত ওই ইনফ্লুয়েন্সারকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সিনালোয়া কার্টেলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করেছিল পুলিশ।
উল্লেখ্য, সিনালোয়া রাজ্যের রাজধানী কুলিয়াকানে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ‘লোস চাপিতোস’ ও ‘লা মায়িজা’ নামে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী কার্টেল গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডও সেই অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: বিবিসি