

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সেনা সদরে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ভেতরের আলোচনা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওই বৈঠকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা সেখানে অংশ নেন। বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে কি না।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘একটা বড় রুম। সভাপতিত্বের আসনে আর্মি চিফ ছিলেন। সঙ্গে সম্ভবত নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানও ছিলেন। দুই পাশে সারি করে আট-নয়জন করে রাজনৈতিক নেতা বসেছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম এবং পরে জোনায়েদ সাকিও সেখানে যোগ দেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আলোচনায় বেশ সরব ছিলেন।’
তিনি জানান, বৈঠকে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রশ্নে তুমুল আলোচনা হয়। সেনাপ্রধান তার মতামত জানতে চাইলে তিনি সংসদ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘আর্মি চিফ ওয়াকার সাহেব আমাকে বললেন, “আসিফ সাহেব, আপনি বলেন। আপনি তো শিক্ষক।” আমি বললাম, অবশ্যই সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এটা কোনো প্রকৃত সংসদ নয়, ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ।’
তিনি বলেন, এ সময় জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সংসদ ভেঙে দিলে সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে মত দেন। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা সংসদ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।
সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল আরও জানান, একপর্যায়ে তিনি শেখ হাসিনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবেন এবং আর ক্ষমতায় থাকবেন না।
তিনি বলেন, ‘এ রকম একটি পরিস্থিতিতে একজন আমাকে বললেন, আমি যেন জনগণকে একটু শান্ত হতে বলি। এরপর বিকেল ৩টার দিকে আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিই—“আপনারা শান্ত হন, আমাদের জন্য অনেক বড় একটা গুড নিউজ আসছে।”’
আসিফ নজরুলের এই বক্তব্যে ৫ আগস্ট সেনা সদরের বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল এবং সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের অবস্থান কী ছিল, সাক্ষাৎকারে সে বিষয়ে নতুন কিছু তথ্য সামনে এলো।