

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্পাপ শহীদ ৬ বছর বয়সী শিশু রিয়া গোপ। দেশজুড়ে যখন নতুন ভোরের আলো, তখন রিয়ার ঘরে শুধুই এক অন্তহীন অন্ধকার আর নীরবতা।
সন্তান হারানোর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই তীব্র মানসিক ট্রমা ও বেদনা কাটিয়ে উঠতে পারেননি তার মা-বাবা। চোখের সামনে একমাত্র মেয়ের ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখলে মানসিক কষ্ট আরও বহুগুণ বেড়ে যায়- এই চিন্তা থেকে অত্যন্ত ভারী মন নিয়ে বাসা থেকে রিয়ার সব জামাকাপড়, খেলনা ও স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলেছেন তার বাবা-মা।
গত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে সবচেয়ে নির্মম ও বেদনাবিধুর অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে আছে ৬ বছরের নিষ্পাপ শিশু রিয়া গোপের অকালমৃত্যু।
আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটি এলাকায় নিজেদের চারতলা বাসার ছাদে তখন চলছিল তুমুল উত্তেজনা ও সংঘর্ষের শব্দ। ঘরের অবরুদ্ধ পরিবেশ থেকে একটু স্বস্তি পেতে রিয়ার বাবা দীপক কুমার গোপ একমাত্র মেয়েকে কোলে নিয়ে ছাদে উঠেছিলেন। কিন্তু সেই মুহূর্তটিই যে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ছাদে বাবার কোলো থাকা অবস্থাতেই হঠাৎ একটি ঘাতক বুলেট এসে রিয়ার মাথায় বিদ্ধ হয় এবং মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে পড়ে নিষ্পাপ শিশুটি।
গুলিবিদ্ধ রিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ চার দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ২৪ জুলাই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে রিয়া।
রিয়া ছিল তার বাবা দীপক কুমার গোপ এবং মা বিউটি ঘোষের সাড়ে চার বছরের দীর্ঘ সাধনা ও প্রার্থনার পর জন্ম নেওয়া একমাত্র সন্তান। তাদের সেই স্বপ্নের প্রদীপ এভাবে নিভে যাওয়ায় পুরো পরিবারটিতে এখন শুধুই এক অন্তহীন অন্ধকার আর স্তব্ধতা নেমে এসেছে।
মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে তার মা-বাবা দুজনেই দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ স্তব্ধ ও গভীর ট্রমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরে পা রাখলেই রিয়ার পড়ার বই, পুতুল আর ছোট ছোট জামাগুলো তাদের প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত করত। তীব্র শোক কিছুটা সামাল দিতে এবং নিজেদের মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখার শেষ চেষ্টা হিসেবেই তারা ঘর থেকে রিয়ার সব দৃশ্যমান স্মৃতি সরিয়ে নেওয়ার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।