

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পাকিস্তানের লাহোরে একটি থানার ভেতরে ২০ বছর বয়সী এক মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় ৭৮ জন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পাকিস্তান পুলিশের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পুলিশের একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তাকে আটক করে গাজীয়াবাদ থানায় নিয়ে যান। পরে থানার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরিবারের দাবি, তরুণীটি রাস্তা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর কান্নাজড়িত অবস্থায় বাড়ি ফিরে থানায় তার ওপর যৌন নির্যাতনের কথা জানান।
ঘটনার পর অভিযুক্ত এএসআইকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গাজীয়াবাদ থানার ৭৮ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
লাহোরের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (অপারেশনস) ফয়সাল কামরান ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম *দ্য গার্ডিয়ান*কে বলেন, পুলিশ বিধিমালা অনুযায়ী থানার ভেতরে সংঘটিত যেকোনো অনিয়ম বা অপরাধ প্রতিরোধ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা জানানো প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সব সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কামরান বলেন, ‘কোনও নারী পুলিশ সদস্যের অনুপস্থিতিতে ওই সহকারী উপ-পরিদর্শক কেন মেয়েটিকে থানায় নিয়ে এলেন, সে বিষয়ে কোনও কর্মকর্তা কোনও প্রশ্ন তোলেননি। আমি ৭৮ জন পুলিশ সদস্যের সবাইকেই বরখাস্ত করেছি। জেন্ডার ক্রাইম উইং ঘটনাটি তদন্ত করছে। আমরা অপরাধীদের চাকরিচ্যুত করব এবং শহরের সব থানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইনি সংস্কার সত্ত্বেও পাকিস্তানে ধর্ষণের মামলায় সাজা হওয়ার হার খুবই কম। টেকসই সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার (এসএসডিও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে সাজা হওয়ার হার ছিল মোটে ০ দশমিক ৫ শতাংশ।