শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাছ থেকে সূর্যের সবচেয়ে নিখুঁত ছবি প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪০ পিএম আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
নাসার তোলা সূর্যের একটি ছবি, যাতে সৌর উদগীরণ দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
expand
নাসার তোলা সূর্যের একটি ছবি, যাতে সৌর উদগীরণ দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা সূর্যের পৃষ্ঠের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নিখুঁত ছবি ও ভিডিও ধারণ প্রকাশ করেছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার-এ। এতে সূর্যের পৃষ্ঠে আগে দেখা না যাওয়া ঘূর্ণাবর্ত বা হুইরলপুল ধরনের কার্যকলাপ ধরা পড়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, ছবিগুলোতে সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রকে উত্তপ্ত গ্যাসের গতিবিধির কারণে ক্রমাগত মোচড় খেতে ও সরে যেতে দেখা গেছে। এই ঘূর্ণায়মান প্রক্রিয়াই সূর্য থেকে শক্তিশালী শক্তি বিস্ফোরণের অন্যতম কারণ, যা মহাকাশ আবহাওয়া সৃষ্টি করে।

এ ধরনের মহাকাশ আবহাওয়া পৃথিবীর বিদ্যুৎ গ্রিড, উপগ্রহের কার্যক্রম এবং এমনকি মহাকাশচারীদের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির (এনএসও) বিজ্ঞানী ডেভিড ববোল্টজ বলেন, সূর্যই এই শক্তির উৎস এবং মহাকাশ আবহাওয়ারও উৎস।

তার মতে, সূর্যের আরও নিখুঁত ছবি সংগ্রহ করা গেলে মহাকাশ আবহাওয়ার প্রকৃতি বোঝা এবং ভবিষ্যতে তা পূর্বাভাস দেওয়া সহজ হবে।

তিনি বলেন, মহাকাশ আবহাওয়া বুঝতে এবং একসময় তা পূর্বাভাস দিতে হলে সূর্যের পদার্থবিদ্যাকে সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্তর পর্যন্ত বুঝতে হবে।

গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে হাওয়াইয়ের একটি পাহাড়চূড়ায় স্থাপিত ইনোয়ে সোলার টেলিস্কোপ। ধুলাবালুমুক্ত পরিষ্কার আকাশের কারণে এই স্থাপনাটি সূর্য পর্যবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত। সূর্যের পৃষ্ঠের অত্যন্ত কাছ থেকে ধারণ করা ছবিতে বিজ্ঞানীরা অসংখ্য ঘূর্ণাবর্তের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন।

এনএসওর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডেভিড কুরিদজে বলেন, এই ঘূর্ণায়মান গতিবিধি চৌম্বক শক্তি তৈরি করে, যা জমতে জমতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সূর্যে শনাক্ত হওয়া এই প্রক্রিয়াকে কেলভিন-হেলমহোল্টজ অস্থিতিশীলতা বলা হয়।

এটি এমন একটি ঘটনা, যেখানে দুটি তরল বা গ্যাসের স্তর ভিন্ন গতিতে একে অপরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হলে ছোট অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তা ধীরে ধীরে ঘূর্ণাবর্তে রূপ নেয়। সমুদ্রে ছোট ঢেউ বড় শক্তিশালী ঢেউয়ে পরিণত হওয়ার পেছনেও একই ধরনের প্রক্রিয়া কাজ করে।

এনএসওর আরেক বিজ্ঞানী ফ্রিডরিখ ওয়োগার বলেন, সূর্যের পৃষ্ঠে এই প্রক্রিয়ার উপস্থিতি শুধু মহাকাশ আবহাওয়ার উৎসই ব্যাখ্যা করে না, বরং সূর্যের পৃষ্ঠ এত বেশি উত্তপ্ত হওয়ার কারণও বুঝতে সহায়তা করে।

তার মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি সূর্যের উচ্চস্তরে পৌঁছে যায়। পর্যাপ্ত শক্তি জমা হলে তা সৌর শিখা অথবা করোনাল মাস ইজেকশন হিসেবে বিস্ফোরিত হতে পারে।

ডেভিড ববোল্টজ বলেন, মহাকাশ আবহাওয়া থেকে সুরক্ষার বাস্তব প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি নতুন এই আবিষ্কার সূর্যকে একটি অনন্য গবেষণাগার হিসেবেও তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, এটি আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র এবং পদার্থবিজ্ঞানের অনেক মৌলিক নিয়ম বুঝতে সহায়তা করে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রমাণও সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পাওয়া গিয়েছিল। মানবজ্ঞান সমৃদ্ধ করার জন্যও এ ধরনের গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: বিবিসি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন