মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

সোমবার তার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবারের কল্যাণ সাধন এবং আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সামাজিক পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) জিয়াউদ্দীন আহমেদ এবং যুগ্মসচিব (সংযুক্ত) মো. জেহাদ উদ্দিন।

অপরদিকে, মার্কিন দূতাবাসের পক্ষে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন নোট টেকার জোশ পোপ, প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া অফিসার রিকি সালমিনা এবং প্রোটোকল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাদ বিন এলাহী।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। আলোচনার শুরুতে সচিব উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় অর্জন, স্মৃতি, ইতিহাস ও আদর্শ লালন ও সংরক্ষণ করা এ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

আলোচনাকালে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ও নির্ভুল তালিকা তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পার হলেও অতীতে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির অভাবে একটি সর্বজনগ্রাহ্য ডাটাবেজ তৈরি জটিল ছিল। বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি (ICT) এবং ডিজিটাল প্রোফাইলিং প্রসেস ব্যবহার করে সঠিক ও নিরপেক্ষ তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ পুরোদমে চলছে।

বৈঠকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বৈপ্লবিক পদক্ষেপসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষায়িত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’-এর আওতায় ৮৪৩ জন বীর শহীদ এবং ১৫,০৩০ জন আহত যোদ্ধার বিস্তারিত ডাটাবেজ প্রণয়ন করা হয়েছে। শহীদ পরিবারসমূহে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা অনুদান এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য ক্যাটাগরি ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’-এর আওতায় যথাক্রমে ৫ লাখ, ৩ লাখ এবং ১ লাখ টাকার এককালীন অনুদান এবং নিয়মভিত্তিক মাসিক ভাতা প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষায়িত চিকিৎসার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১৫৪ জন সংকটাপন্ন আহতকে সরকারি খরচে থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও রাশিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এ খাতে ৪৪৮.১১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সাক্ষাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী কার্যক্রম, বিশেষ করে আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নির্ভুল করার প্রয়াস এবং জুলাই বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসন প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা (যেমন-ন্যাশনাল আর্কাইভস, স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউট) উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ একটি সতত চলমান প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সঠিক ইতিহাস সুরক্ষায় এবং ডাটাবেজ তৈরিতে মার্কিন পাব্লিক ডিপ্লোমেসি টিমের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক ঘটনাবলীভিত্তিক গ্রন্থ ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’ এবং ‘বেগম খালেদা জিয়া: দ্য লাইফ অ্যান্ড স্টোরি’ সহ অন্যান্য স্মারকগ্রন্থ ও উপহারসামগ্রী হস্তান্তর করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন