

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাবাস শেষে অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই টংগীরচর গ্রামের প্রয়াত ডাক্তার আব্দুর রাশিদের ছেলে জাকির হোসেন পলাশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি আসেন। তাকে এক নজড় দেখার জন্য বাড়ি এসে ভিড় করেন আশপাশের স্বজনরা। এ সময় সবার সাথে তার দীর্ঘ সময় কাশিমপুর কারাগারে বন্দী জীবনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার কষ্টের কথা শুনে স্বজনেরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি, তৈরি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
বন্দি থাকাবস্থায় তিনি জীবন থেকে হারিয়েছেন বাবা, সন্তান ও স্ত্রীসহ অসংখ্য আপনজন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি তার বাবাকে ও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত একমাত্র কলিজার টুকরা সন্তানকে হারান। কারাবাসের কারণে তিনি তার আপনজনদের জানাজা নামাজেও উপস্থিত থাকতে পারেননি।
বাবা ও সন্তান হারানোর কষ্টের মাঝে যুক্ত হলো স্ত্রী ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট। তার মুক্তির অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রিয়তমা স্ত্রী কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে তাকে ছেড়ে অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ফলে মুক্ত হয়ে তিনি তার পরিবারের আপনজন হারানোর বেদনায় কাতর। বর্তমানে পরম আপনজন তার মা জীবিত আছেন।
নিঃস্ব অবস্থায় পলাশের মুক্ত জীবন পেয়ে তার পরিবার আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। মুক্তির পর তার বড় ভাই বিজিবি সদস্য আজহারুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে ছোট ভাইয়ের মুক্তিতে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন ও তার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে লিখেছেন "আলহামদুলিল্লাহ! দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো। আজ ১৯শে জুন শুক্রবার আমার ছোট ভাই, বিডিআর জাকির হোসেন পলাশ জামিনে মুক্তি পেয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আবারও আপনজনদের মাঝে ফিরতে পেরেছে। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মহান আল্লাহর দরবারে অশেষ শুকরিয়া। তার সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য সকলে দোয়া করবেন।"
