

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে বিয়ে কেবল একটি সামাজিক বন্ধনই নয়, এটি জীবনকে পবিত্র ও সম্পূর্ণ করার একটি বরকতময় ইবাদত। মহানবী (সা.) যুবসমাজকে সামর্থ্য হওয়ামাত্রই বিয়ে করার তাগিদ দিয়েছেন, কারণ এটি চরিত্র রক্ষা করতে এবং অনৈতিকতা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।
আর সামর্থ্য না থাকলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইসলামে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা ক্ষণ নেই, বরং উপযুক্ত সময়ে দ্রুত বিয়ে করে নেওয়াই নিয়ম।
ইসলামি শরিয়াহ (বিশেষ করে হানাফি ফিকহ) অনুযায়ী, একটি বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য মূলত দুটি জিনিস প্রয়োজন- ‘ইজাব’ (বিয়ের প্রস্তাব) এবং ‘কবুল’ (তা গ্রহণ করা)। সাথে অবশ্যই দুজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি থাকতে হবে।
অনেকের ধারণা, বিয়ে হতে হলে হুবহু ‘কবুল’ শব্দটিই মুখস্থ বলতে হবে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। মনের সম্মতি প্রকাশ পায় এবং তাৎক্ষণিক স্থায়ী বন্ধন বোঝায়, এমন যেকোনো স্পষ্ট শব্দ দিয়েই বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যায়। যেমন:
ক্ববিলতু (আমি গ্রহণ করলাম)
রদ্বিতু (আমি রাজি হলাম)
তাজাওয়াজতু (আমি বিয়ে করলাম)
আজাযতু (আমি অনুমোদন করলাম)- প্রতিনিধির মাধ্যমে বিয়ে হলে এই শব্দ ব্যবহার করা যায়।
এ ছাড়া ‘হেবা’ (দান করা) বা ‘তামলিক’ (স্থায়ী মালিকানা দেওয়া) শব্দগুলো দিয়েও বিয়ে সম্পন্ন হতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। শব্দগুলো অবশ্যই বর্তমান বা অতীত কালের হতে হবে (যেমন: ‘করলাম’ বা ‘রাজি হলাম’)। ভবিষ্যৎ কালের কোনো কথা (যেমন: ‘বিয়ে করব’ বা ‘পরে জবাব দেব’) বললে বিয়ে হবে না।
একই সাথে চুক্তিটি হতে হবে চিরস্থায়ী; সাময়িক বা ভাড়ার মতো কোনো শব্দ ব্যবহার করলে বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হবে।
