

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে ২০১৫ সালে পেনশন ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে পেনশনের হার বৃদ্ধি, চাকরিকালের শর্ত শিথিল, পারিবারিক পেনশনের সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ছুটি নগদায়নের সুযোগ বাড়ানোসহ নানা সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ও হার
নতুন নিয়ম অনুযায়ী পেনশন পাওয়ার ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশন হার শেষ মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।
৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে পেনশন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়, যেখানে ন্যূনতম ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়।
তবে ৫ থেকে ২৪ বছরের নির্ধারিত সুবিধা সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য—যেমন চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে স্থায়ী অক্ষমতা বা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানো।
অবসরভোগীদের পেনশন বৃদ্ধি
২০১৫–১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনেও পরিবর্তন আনা হয়। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের জন্য ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়। পাশাপাশি ন্যূনতম মাসিক পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
গ্র্যাচুইটি ও পারিবারিক সুবিধা
নতুন কাঠামোয় গ্র্যাচুইটি হিসাবেও পরিবর্তন আনা হয়। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়।
চাকরির মেয়াদ ৫ বছরের কম হলেও মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে পরিবারকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিধান রাখা হয়। প্রতি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থায়ও শর্ত শিথিল করা হয়। বিধবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে পুনর্বিবাহ না করার পূর্বশর্ত শিথিল করা হয় এবং প্রয়োজনে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশনের আওতায় আসতে পারেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
ছুটি নগদায়নে নতুন সুযোগ
অবসরের সময় ছুটি নগদায়নের সীমা ১২ মাস থেকে বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়। এতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের এককালীন আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি পায়।
প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয় এবং সে সময় পিআরএলে থাকা কর্মচারীরাও নতুন সুবিধার আওতায় আসেন।
