

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)-এর সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এ ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমণির একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। ২০২৪ সালের ২৫ জুন দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি সাকলায়েনকে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন।
তখনই পরীমণি দাবি করেছিলেন, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।
সাকলায়েনের চাকরি হারানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকাই সিনেমার আলোচিত এই নায়িকা বলেছিলেন, ‘আমি বা সাকলায়েন বলার আগে তো পাবলিকই এটা নিয়ে বলছে। প্রশাসনও এটা নিয়ে বলছে। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখনো আসেনি, ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি আসে, তখন আমি কথা বলব।’
তাদের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা আলোচনা ও অভিযোগ প্রসঙ্গে পরীমণি বলেন, ‘সম্পর্কের বিষয় যদি আসে, এটা তো একজনের ব্যাপার না, দুজনের পক্ষ থেকেই আসে। এখন পর্যন্তও আমাদের সম্পর্কটা তো মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা প্রেমে ছিলাম, নাকি কী করছি, কোনো কিছুই তো পরিষ্কার নয়। এটা না সাকলায়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, না আমার কাছে। সবখানে মনগড়া জিনিস লেখা হয়েছে।’
সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘যেখানে সম্পর্কটা ডিফাইন করার আগে এত অপবাদ নিয়ে ফেলছি, সেখানে এই সম্পর্কটা কী, তা নিয়ে কথা বলার জায়গাও তো জনগণ রাখেনি। আমার মনে হয় না এটার আর কোনো দরকার আছে।’
সাকলায়েনকে ঘিরে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে পরীমণির মন্তব্য ছিল, ‘আমার শুধু মনে হয়, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের মধ্যে পড়েছে।’
তিনি আরো বলেছিলেন, ‘প্রেম-ভালোবাসা যা-ই হোক না কেন, এটা শুধু একটা অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আবারও বলছি, আমার মনে হয়, সে অন্য কোথাও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।’
কার সেই ব্যক্তিগত আক্রোশ- এমন প্রশ্নের জবাবে পরীমণি বলেছিলেন, ‘আমি জানি না। তবে অবশ্যই ব্যক্তিগত আক্রোশ। কিন্তু এমনটা নয়, প্রেম-ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে হয়েছে, তা আমি বিশ্বাস করি না।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘তবে সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে। সে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্ত্বেও চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে মো. গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, ওই প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
