

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। তবে এই স্বস্তিদায়ক যন্ত্রটি সামান্য অসাবধানতায় কখনো কখনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি, এমনকি মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আজকাল প্রায়ই এসি বিস্ফোরণের খবর আমাদের চোখে পড়ে। তবে কিছু বিষয়ে একটু সচেতন হলে এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে এই দুর্ঘটনাগুলো পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব।
এসি বিস্ফোরণ কেন হয়?
এসি মূলত কয়েকটি প্রধান টেকনিক্যাল ও ব্যবহারজনিত ত্রুটির কারণে বিস্ফোরিত হতে পারে:
রেফ্রিজারেন্ট বা গ্যাস লিক: ঘর ঠান্ডা করার জন্য এসিতে উচ্চ চাপে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কোনো কারণে এই গ্যাস লিক হলে এবং তা যদি সামান্য বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের (Sparks) সংস্পর্শে আসে, তবে মুহূর্তেই আগুন ধরে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব: দীর্ঘদিন এসি পরিষ্কার না করলে এর ভেতরে প্রচুর ধুলোবালি ও ময়লা জমে। এতে যন্ত্রটির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয় এবং এসি অতিরিক্ত গরম (Overheating) হয়ে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করে।
টানা দীর্ঘ সময় চালানো: একটানা অনেক ঘণ্টা এসি চললে এর ভেতরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশগুলো অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে, যা একপর্যায়ে শর্ট সার্কিট বা বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে।
ভোল্টেজের ওঠানামা: বিদ্যুতের ভোল্টেজ বারবার ওঠানামা করলে এসির কম্প্রেসর বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সার্কিটে মারাত্মক চাপ পড়ে এবং যন্ত্রটি বিকল হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এসি দুর্ঘটনা রোধে করণীয়
সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে এসি নিরাপদ রাখা সম্ভব:
পেশাদার মেকানিক দিয়ে সার্ভিসিং: প্রতি বছর গরমের শুরুতে এবং নিয়মিত বিরতিতে একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি সার্ভিসিং করান। কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলে তা অবহেলা না করে দ্রুত মেরামত করুন।
লিক ডিটেক্টর ব্যবহার: এসিতে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিক হচ্ছে কি না, তা বুঝতে 'লিক ডিটেক্টর' ডিভাইস ইনস্টল করতে পারেন। এটি গ্যাস লিক হওয়ামাত্র আপনাকে সতর্ক করে দেবে। পুরোনো এসি বদলে নতুন এসি কেনার সময় এই ফিচারটি আছে কি না দেখে নিন।
মাঝে মাঝে বিরতি দিন: একটানা দীর্ঘ সময় এসি চালানো থেকে বিরত থাকুন। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বা ঘরে কেউ না থাকলে অবশ্যই এসি বন্ধ রাখুন।
অস্বাভাবিক সংকেত খেয়াল করুন: এসি থেকে যদি কোনো অদ্ভুত গন্ধ বা অস্বাভাবিক শব্দ পাওয়া যায়, তবে দেরি না করে তৎক্ষণাৎ এসি বন্ধ করে দিন এবং মেকানিক ডাকুন।
জানালা বন্ধ রাখুন: এসি চালু থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সময় জানালা বা দরজা খোলা রাখবেন না। এতে ঘর ঠান্ডা হতে পারে না এবং এসির কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
সচেতনতা ও সঠিক যত্নই পারে আপনার এসিকে নিরাপদ রাখতে এবং যেকোনো বড় দুর্ঘটনা থেকে আপনার পরিবারকে রক্ষা করতে।
