

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভবদহের সমস্যার সমাধান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় সরকার।
শনিবার (১৬ মে) সকালে যশোর শিল্পকলা অ্যাকাডেমির মিলনায়তনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। যশোরের অভিশাপ খ্যাত ভবদহ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিবসা ও পশুর নদীর অববাহিকার পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভবদহ সমস্যার সমাধান টিআরএমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। তবে টিআরএম বাস্তবায়নে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট আছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিকভাবে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের আস্থায় আনতে পারলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক নাজরিন আক্তার খান। আর সমীক্ষা প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন আইডব্লিউএমের সিনিয়র স্পেশালিস্ট শেখ নাহিদুজ্জামান। কর্মশালায় জানানো হয়, ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার নদীগুলোতে অতিরিক্ত পলি জমা হওয়া এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কয়েক যুগ ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আগে টিআরএম কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে কিছু সুফল মিললেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ২০২১ সালে ভবদহ রেগুলেটরের ওপর ২০টি নিষ্কাশন পাম্প বসানো হলেও ২০২৪ সালের অতিবর্ষণের বন্যা প্রমাণ করেছে, এটি স্থায়ী সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। এ পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আইডব্লিউএমকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়।
যশোর জেলার মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলায় এই সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে নদী, খাল ও বিলের জরিপ, গাণিতিক মডেলিং, কৃষি, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। সমীক্ষায় ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পৃথক সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন নদী ও সংযোগ খাল খনন, অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন পাম্প স্থাপন, পাইলট চ্যানেল খনন, নদীর সঙ্গে বিল সংযুক্ত করে পুনরায় টিআরএম চালু করা, নদীর প্লাবনভূমি দখলমুক্ত করা, ভবদহ রেগুলেটরের পরিবর্তে সেতু নির্মাণ করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বিল ডাকাতিয়া এলাকার রেগুলেটর মেরামত ও নতুন করে স্থাপন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও নদীতে পলি জমার সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধান সম্ভব হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রাছুল, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আজিম আহমেদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রূহুল আমিন। এছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ও স্থানীয় প্রতিনিধিরাও কর্মশালায় অংশ নেন।
