বুধবার
১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমার প্রাণপ্রিয় মেয়েটা চলে গেছে’ কায়সার হামিদের আবেগঘন বার্তা

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম
বাবা কায়সার হামিদের সঙ্গে হাসিমুখ কারিনা কায়সার।
expand
বাবা কায়সার হামিদের সঙ্গে হাসিমুখ কারিনা কায়সার।

রাত ১টা ৩০ মিনিট। গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদের একটি স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে শোবিজ অঙ্গনে। বাবা–মেয়ের একটি হাসিখুশি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় কায়সার হামিদ। প্রায়ই পরিবারের নানা মুহূর্ত, বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছবি ও স্মৃতিময় পোস্ট শেয়ার করতেন তিনি। বাবা–মেয়ের হাসিমাখা ছবিগুলো পরিচিত ছিল অনেকের কাছেই। কখনো জন্মদিন, কখনো পারিবারিক আড্ডা, আবার কখনো সাধারণ কোনো মুহূর্ত—মেয়েকে নিয়ে তাঁর আবেগমাখা পোস্ট নজর কাড়ত অনুসারীদের। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে সেই হাসিখুশি পরিবারেই নেমে এল শোকের ছায়া।

স্ট্যাটাসে কায়সার হামিদ আরও লেখেন, ‘আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।’

লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর আজ শুক্রবার সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তিনি মা–বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি।

কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে। পরে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

শুক্রবার গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।

এর আগে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ ও ৩৬-২৪-৩৬।

কারিনার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও ভক্তরা তাঁর স্মৃতিচারণা করে শোক প্রকাশ করছেন। অনেকেই তাঁর হাসিখুশি স্বভাব, প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও সংগ্রামী মানসিকতার কথা তুলে ধরছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, কয়েক দিন আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন কারিনা। হঠাৎ এমন বিদায়ে তাঁরা এখনো বিশ্বাসই করতে পারছেন না।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
England VS Argentina
Scheduled
16 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup