

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ কেলেঙ্কারি, তারল্য সংকট, অনিয়ম এবং কিছু ব্যাংকে আমানত ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় লেনদেন সীমিত হওয়ার খবর ও আর্থিক চাপের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় অনেক আমানতকারী এখন নিরাপদ ব্যাংক খুঁজছেন।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কোন ব্যাংকে টাকা রাখলে তা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকবে।
কোন ব্যাংকগুলো এগিয়ে?
২০২৪ সালের বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণ, মুনাফা, খেলাপি ঋণের হার, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহকসেবার ভিত্তিতে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংককে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ধরা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দ্য সিটি ব্যাংক।
এর পরের তালিকায় রয়েছে—
প্রাইম ব্যাংক ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পূবালী ব্যাংক
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ভালো যেসব ব্যাংক
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই ব্যাংকিং কার্যক্রমে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে আরও কয়েকটি ব্যাংক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক যমুনা ব্যাংক শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কতটা নিরাপদ?
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকি তুলনামূলক কম। কারণ প্রয়োজন হলে সরকার সরাসরি সহায়তা দিয়ে থাকে। এ কারণে অনেক গ্রাহক এখনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখেন।
তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো হলো—
সোনালী ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক জনতা ব্যাংক
অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে নিয়মিত ছোট অংকের সঞ্চয় ভবিষ্যতে বড় সহায়তা হতে পারে। তাই শুধু মুনাফা নয়, টাকার নিরাপত্তা ও ব্যাংকের স্থিতিশীলতাও এখন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
গ্রাহকদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়াতে বিভিন্ন ব্যাংকের ডিপিএস ও সঞ্চয় স্কিমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদাহরণ হিসেবে রূপালী ব্যাংক–এর ‘আরডিপিএস-৩’ স্কিমের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। এই স্কিমে মাসে ৫ হাজার টাকা জমা রেখে ১০ বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের স্কিমে মূলধনের নিরাপত্তা তুলনামূলক বেশি হলেও মুনাফার হার বাজারভিত্তিক বিনিয়োগের তুলনায় কম হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান সময়ে মানুষ শুধু বেশি লাভের দিকে নয়—বরং টাকার নিরাপত্তা, দ্রুত লেনদেন সুবিধা এবং ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
