

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে ‘এল নিনো’। আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করছেন, বছরের শেষ দিকে এটি ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে। এমনটি হলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা, খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নোয়া) ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানিয়েছে, এবারের এল নিনো অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, এটি ‘ভয়াবহ’ মাত্রায় পৌঁছানোর আশঙ্কা এখন প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। কোথাও তীব্র খরা ও দাবদাহ, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে থাকা উষ্ণ পানির বিশাল স্তর ধীরে ধীরে ওপরে উঠছে। এ কারণে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে ‘সুপার এল নিনো’ হওয়ার সম্ভাবনাও আগের তুলনায় বেড়েছে।
কিছু জলবায়ু মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে, এবারের এল নিনো ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে। এর আগে ১৯৭২, ১৯৮২, ১৯৯৭ এবং ২০১৫-১৬ সালে ভয়াবহ এল নিনোর অভিজ্ঞতা হয়েছিল বিশ্ববাসীর।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এল নিনোর কারণে ২০২৬ বা ২০২৭ সাল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছরগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা এমনিতেই বাড়ছে। তার সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আফ্রিকার কিছু অংশে দেখা দিতে পারে তীব্র শুষ্কতা। আবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাব সব সময় একইভাবে দেখা যায় না। তবে এবারের পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
