

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে নতুন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তিনটি পৃথক বেতন কমিশনের সুপারিশ সমন্বয়ের লক্ষ্যে পুনর্গঠিত কমিটি ধাপে ধাপে নবম পে স্কেল চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। জানা গেছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
গত ২১ এপ্রিল সরকার জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন–সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করার কমিটি পুনর্গঠন করে। এই কমিটি ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস নিয়ে তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, একসঙ্গে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা বাড়ানো হতে পারে।
তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আসন্ন বাজেটে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। চূড়ান্ত অনুমোদন এলে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হবে।
সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন পে স্কেল কার্যকর হয়নি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে পে কমিশন গঠন করে এবং তারা নির্বাচনের আগেই সুপারিশ জমা দেয়।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বেতন বৈষম্যের অনুপাত ধরা হয়েছে ১:৮। এটি আগের কমিশনগুলোর তুলনায় কম। ১৯৭৩ সালের প্রথম বেতন কমিশনে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪, আর ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলে ছিল ১:৯.৪।
বর্তমান কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করলে প্রস্তাবিত স্কেলে নিম্নগ্রেডের কর্মচারীরা বড় ধরনের সুবিধা পাবেন। উদাহরণ হিসেবে, ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর বর্তমান মোট বেতন-ভাতা প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা হলেও নতুন কাঠামো অনুযায়ী তা বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।
উচ্চ গ্রেডগুলোর ক্ষেত্রেও বেতন ও ভাতা বাড়বে, তবে তুলনামূলকভাবে কম হারে। যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার মতো কিছু ভাতা নির্দিষ্ট গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকবে। এছাড়া গাড়ি সুবিধা নগদায়নের বিষয়টি সব গ্রেডের ক্ষেত্রে সমানভাবে বিবেচনায় না আসায় ভাতা বৃদ্ধির হারেও পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, নতুন স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে চালু থাকা ১০ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় করা যেতে পারে।
মন্তব্য করুন
