

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হজ পালন শেষে অনেক হাজিকে মাথা ন্যাড়া করতে দেখা যায়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, কেন এই নিয়ম পালন করা হয়? ইসলামে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং গভীর তাৎপর্যপূর্ণ একটি ইবাদতের অংশ।
হজ ও ওমরার গুরুত্বপূর্ণ বিধানের মধ্যে রয়েছে ‘হালক’ (মাথা মুণ্ডন করা) এবং ‘তাকসির’ (চুল ছোট করা)। হজের নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা, বিশেষ করে মিনায় কোরবানি ও জামারাতে পাথর নিক্ষেপের পর পুরুষ হাজিদের জন্য মাথা মুণ্ডন করা বা চুল ছোট করা ওয়াজিব। ইসলামি শরিয়তে মাথা পুরোপুরি মুণ্ডন করাকে বেশি উত্তম হিসেবে ধরা হয়।
ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়, মাথার চুল কেটে ফেলা আত্মসমর্পণ, বিনয় এবং পার্থিব অহংকার ত্যাগের প্রতীক। একজন মুসলমান যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের বাহ্যিক সৌন্দর্যের অংশ ত্যাগ করেন, তখন তা তার আনুগত্য ও ত্যাগের প্রকাশ হিসেবে গণ্য হয়।
হাদিসে এসেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মাথা মুণ্ডনকারীদের জন্য তিনবার দোয়া করেছেন এবং যারা শুধু চুল ছোট করেছেন তাদের জন্য একবার দোয়া করেছেন। এ থেকেই বোঝা যায়, মাথা মুণ্ডন করার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, হজের এই বিধান মানুষের ভেতরের অহংকার ভেঙে দেয় এবং সবাইকে সমতার বার্তা দেয়। ধনী-গরিব, প্রভাবশালী-সাধারণ—সবাই একই পোশাকে, একই নিয়মে, একইভাবে আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করেন। মাথা ন্যাড়া করাও সেই সমতারই প্রতীক।
নারীদের ক্ষেত্রে অবশ্য পুরো মাথা মুণ্ডন করার বিধান নেই। তারা চুলের সামান্য অংশ কেটে হজের এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, মাথা ন্যাড়া করা শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়; এটি এক ধরনের আত্মশুদ্ধি, নতুনভাবে জীবন শুরু করার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। অনেক আলেম বলেন, হজ শেষে একজন মানুষ যেন নতুন জন্ম নেওয়া শিশুর মতো পাপমুক্ত হয়ে ফিরে আসেন—মাথা মুণ্ডনের মধ্যেও সেই বার্তাই নিহিত রয়েছে।
মন্তব্য করুন
