বুধবার
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খসড়া চূড়ান্ত: যেকোনো সময় যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

মো. ইলিয়াস
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের আলোচনা যখন তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময় পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। দলীয় সূত্র বলছে, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করার জন্যই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, যে কোনো সময় ঘোষণা করা হবে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি।

২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দেড় বছরেও সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি। বর্তমানে ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম চলছে।

যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ প্রত্যাশী কয়েকজন নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আংশিক কমিটি বা সীমিত পরিসরের নেতৃত্বের কারণে অনেক ত্যাগী নেতা সাংগঠনিক পরিচয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে রাজপথে সক্রিয় থেকেও তারা প্রত্যাশিত মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। যখন বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলো পুনর্গঠনে আলোচনা চলছে তখনই যুবদলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের এই দাবির বিষয় নিয়ে যুব দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন।

সূত্র বলছে, যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে নমনীয় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনিও চান ত্যাগী নেতারা যাতে সাংগঠনিক পরিচয় থেকে বঞ্চিত না হন। তাই যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া প্রস্তুত করতে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছেন। পরে পদপ্রত্যাশী নেতাদের নিকট তাদের ব্যক্তিগত তথ্য (বায়ডাটা) দেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

যুবদলের একাধিক পদপ্রত্যাশী নেতা মনে করছেন, যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কমবে এবং দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতাদের জন্য এটি হবে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

দলীর সূত্র জানায়, যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ১৫১ বা ২০১ সদস্যবিশিষ্ট হতে পারে। আর এই কমিটির মেয়াদ হতে পারে ৫ থেকে ৬ মাস। তবে কমিটির সময় কমবেশি নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই পদপ্রত্যাশীদের। তারা চাচ্ছে নিজেদের জন্য সাংগঠনিক একটি পরিচয়। কারণ চলতি বছরের শেষের দিকে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা হবে।

কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এনপিবি নিউজকে বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বিএনপির কাউন্সিল হওয়ার পূর্বে সমস্ত অঙ্গ সংগঠনগুলো নতুন কমিটি দেবেন এটাই স্বাভাবিক। সংগঠন যেভাবে গতিশীল করা যায় সেই চেষ্টাই করছি। নেতাকর্মীরা যাতে পদ পদবি পায় সেটা আমরাও চাই। এছাড়া আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তিনিও চান নেতাকর্মীরা যাতে সাংগঠনিক পরিচয় দিতে পারেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি বেশি বড় হবে না ছোট হবে। পার্টি চায় শক্তিশালী কমিটি। বড় কমিটি দিলে ভালো রেজাল্ট আসে না এজন্য ছোট কমিটি দেয়া হবে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কারা জায়গা পাবে জানতে চাইলে যুবদলের সভাপতি বলেন, যারা ডেডিকেটেড, ত্যাগী, পার্টির প্রতি বিশ্বস্ত তারাই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা পাবেন। আমি দীর্ঘদিন জেল খেটেছি, তাই আমি সেভাবেই মূল্যায়ন করবো।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন