

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গত মাসে ঝড়ে আমার জমির ভুট্টা মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। চার দিন আগে কষ্ট করে তুলে বাড়িতে এনে রেখেছি শুকানোর জন্য। কিন্তু এখন টানা বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টিতে সেই ভুট্টা পচে যাওয়ার উপক্রম।
আর কয়েকদিন এমন আবহাওয়া থাকলে সব শেষ হয়ে যাবে, বলছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেংগারচর পৌরসভার দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন।
চলতি মৌসুমে ১৫০ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলেন তিনি। প্রথম দফার কালবৈশাখী ঝড়ে আধাপাকা ভুট্টা গাছ জমিতে শুয়ে পড়ে।
পরে কোনোভাবে ভুট্টা সংগ্রহ করে বাড়ির উঠোনে এনে শুকাতে দেন। কিন্তু টানা বৈরী আবহাওয়া, শিলাবৃষ্টি ও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে সেই ভুট্টা এখন বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ইমরান হোসেনের বাড়ির উঠোনে প্লাস্টিকের চট দিয়ে ঢেকে রাখা ভুট্টার বিশাল স্তুপ। চট সরানোর সঙ্গে সঙ্গেই ভেতর থেকে ধোঁয়ার মতো বাষ্প বের হতে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, ভুট্টাগুলো একসঙ্গে স্তুপ করে রাখায় অতিরিক্ত আর্দ্রতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সময়মতো রোদ না পেলে পুরো ভুট্টা নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
ইমরানের পাশাপাশি একই গ্রামের আব্দুল জব্বার, দুলাল হোসেন, শাহজালাল, জসীমউদ্দীন, হাবিব সিকদার ও মুজিবুর রহমানসহ একাধিক কৃষকের ক্ষেত ও ঘরে রাখা ভুট্টাও একই ঝুঁকিতে পড়েছে। কারও কারও জমির ভুট্টা এখনো পানির নিচে রয়েছে বলে জানা গেছে।
কৃষক জসীমউদ্দিন বলেন, এবার আমরা সবাই অনেক আশা নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। কিন্তু প্রথমেই কালবৈশাখীর ঝড়ে গাছ মাটিতে পড়ে যায়। পরে কষ্ট করে যা তুলেছি, সেটাও এখন ঘরে এনে রাখতে পারছি না।
টানা বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টিতে শুকানোর সুযোগ নেই। উঠোনে রাখা ভুট্টা এখন ঘেমে নষ্ট হওয়ার মতো অবস্থায়। যদি আরও কয়েকদিন এমন আবহাওয়া থাকে, তাহলে আমাদের পুরো শ্রমটাই বৃথা যাবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৪৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আক্রান্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে উপজেলার কিছু ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষ করে ভুট্টা ও বোরো ধানের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, যেন ভুট্টা ও ধান স্তুপ করে না রেখে ছড়িয়ে রাখার ব্যবস্থা করেন। এতে পচন ও ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে।
মন্তব্য করুন