

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকেই বেছে নিয়েছিলেন ইকরাম খান। সেই সিদ্ধান্তই আজ বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন। একসময় সিঙ্গাপুরপ্রবাসী বড় ভাইয়ের দেওয়া একটি মাত্র আঙুরের চারা ছিল তাঁর সম্বল। আর এখন সেই একটি চারার হাত ধরেই চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছোট হলদিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে প্রায় ১৫০ জাতের আঙুরের বাগান। আঙুর ও চারা বিক্রি করে বছরে আয় করছেন প্রায় ৯ লাখ টাকা।
২৬ বছর বয়সী ইকরাম খান ছোট হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর সাবেক উপ-প্রকৌশলী সায়েদুল ইসলাম খানের ছেলে তিনি। চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় ইকরাম বর্তমানে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলার কলাদী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। সেখান থেকে প্রায় প্রতিদিন গ্রামে এসে নিজের বাগানের পরিচর্যা করেন।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে ১৮ শতক পৈতৃক জমিতে তাঁর এই ব্যতিক্রমী আঙুর বাগান। মালচিং পদ্ধতিতে গড়ে তোলা বাগানে সারি সারি গাছে ঝুলছে লাল, সবুজ, হলুদ, আধাপাকা ও পাকা আঙুরের থোকা। দূর থেকেই নজর কাড়ে সেই দৃশ্য।
ইকরাম জানান, ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা এগোয়নি। চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই কিছু করার চিন্তা করেন। ২০২১ সালে সিঙ্গাপুরে থাকা বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে একটি আঙুরের চারা পান। সেটি বাড়ির ছাদে লাগানোর এক বছর পর গাছে ফল আসে। থোকায় থোকায় আঙুর দেখে তাঁর আগ্রহ আরও বাড়ে।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদেশ থেকে অনলাইন ও লোক মারফত ১৫০টি উন্নত জাতের আঙুরের চারা সংগ্রহ করেন। পরে পৈতৃক ১৮ শতক জমিতে গড়ে তোলেন পূর্ণাঙ্গ আঙুর বাগান। বর্তমানে তাঁর বাগানে ব্ল্যাক ম্যাজিক, গ্রিনলন, ভ্যালেজ, সুপারনোভা, এঞ্জেলিকাসহ প্রায় ১৫০ জাতের আঙুরগাছ রয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বাগানে আঙুর পাকা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬০০ কেজির বেশি পাকা ও আধাপাকা বিষমুক্ত আঙুর উৎপাদন করেছেন। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি চারা বিক্রি করে আয় করেছেন আরও প্রায় ৬ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বছরে তাঁর মোট আয় প্রায় ৯ লাখ টাকা।
ইকরাম খান বলেন, আমাদের এখানে মূলত মিষ্টি জাতের বিভিন্ন আঙুরের চারা বেশি বিক্রি হয়। ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের চারা রয়েছে। এ পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি চারা বিক্রি করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের বাগানের আঙুর বাজারে নিয়ে যেতে হয় না। ফলগুলো মিষ্টি, রসালো ও বিষমুক্ত হওয়ায় মানুষ সরাসরি বাগানে এসে কিনে নিয়ে যায়। অনলাইনেও চারা ও ফলের ভালো চাহিদা রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইকরাম বলেন, আমি আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ করতে চাই। দেশে আঙুরের উৎপাদন বাড়লে বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজন কমবে। আমি চাই আরও তরুণ কৃষিতে আগ্রহী হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হালিম বলেন, পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে সফলতা আসবেই, ইকরাম তার উদাহরণ। একটি চারা থেকে আজ সে একটি বড় আঙুর বাগান গড়ে তুলেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ইকরামের বাগান কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। বিষমুক্ত ও সুস্বাদু আঙুর চাষ করে তিনি এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃষি অফিস থেকে তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন