মঙ্গলবার
১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলাপুর স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
রাজধানী ছাড়ার চিরচেনা স্রোত এখন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে
expand
রাজধানী ছাড়ার চিরচেনা স্রোত এখন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ছাড়ার চিরচেনা স্রোত এখন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। গতকাল সোমবার সরকারি শেষ কর্মদিবস শেষ হওয়ার পর রাত থেকেই স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরেও সেই একই চিত্র বজায় ছিল। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি ট্রেনই যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে স্টেশন ছাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, যাত্রীচাপ কয়েক গুণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হয়নি।

ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় এবং সব কার্যক্রম সুশৃঙ্খল থাকায় স্টেশনে ভিড় থাকলেও যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও উৎফুল্ল ভাব লক্ষ্য করা গেছে।

আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজশাহীগামী ‘ধুমকেতু এক্সপ্রেস’ ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে দিনের ট্রেনযাত্রা শুরু হয়। এরপর যথাসময়ে ঢাকা ছাড়ে নীলনাগর, সুন্দরবন, এগারো সিন্দুর প্রভাতী এবং তিস্তা এক্সপ্রেস। কমলাপুর স্টেশনে পরিবার নিয়ে অপেক্ষায় থাকা তাজুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, ভিড় হবে জেনে তিনি সকালে স্টেশনে এসেছেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির কারণে বিনা টিকিটে কেউ প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে পারছে না দেখে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী আহসান হাবিব শিমুল জানান যে, পরিবারকে আগেই পাঠিয়ে দিলেও নিজে আজ রওনা দিচ্ছেন এবং ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে আসায় তিনি খুব খুশি।

ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার তিন স্তরের নিরাপত্তা ও টিকিট চেকিং ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বিনা টিকিটে ভ্রমণ ঠেকাতে স্টেশন ও প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ টিটিই আফতাব জানিয়েছেন, টিকিট ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে পরিবারের সদস্য সংখ্যার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম হলে নির্ধারিত ভাড়ায় তাৎক্ষণিক স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। স্টেশনের প্রবেশপথে দুই দফা টিকিট পরীক্ষা করার কারণে সুশৃঙ্খলভাবে যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে পারছেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের ঈদে শবে কদর ও নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের বড় ছুটি পেয়েছেন।

গত ১৫ ও ১৬ মার্চ অফিস খোলা থাকায় অনেকে তখন যেতে না পারলেও আজ মঙ্গলবার ভোর থেকেই মূল স্রোতটি শুরু হয়েছে। শুধু রেলওয়ে নয়, কমলাপুর সংলগ্ন বাস কাউন্টারগুলোতেও যাত্রীদের উপচেপড়া উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যে, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই যাত্রীচাপ অব্যাহত থাকবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন