

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


স্ত্রী বাসায় না থাকা অবস্থায় ২০২১ সালের ১ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক সেই অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনের রাজারবাগে সরকারি বাসায় যান নায়িকা পরীমনি। প্রায় ১৭ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন তিনি।
এদিকে ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সাকলায়েন বিভিন্ন সময়ে পরীমনির বাসায় অবস্থান করেছেন। তার ও পরীর মোবাইল ফোনে আদান-প্রদানকৃত মেসেজ ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথোপকথন সাধারণ পরিচিতি বা পেশাগত প্রয়োজনে স্থাপিত কোনো সম্পর্কের নয়; বরং অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক। পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখা থেকে দেওয়া সাকলায়েনের ফোনের সিডিআর থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে। পরীমণির সঙ্গে রাত্রিযাপন ও অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর জন্য তৈরি প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন।
সারসংক্ষেপটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। পরে রাষ্ট্রপতির আদেশে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২০২১ সালের ১৪ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন পরীমনি। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। সেই সূত্র ধরে সাকলায়েনের বাসায় যাতায়াত শুরু হয় পরীমনির।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১ আগস্ট সকালে পরীমনি নিজের গাড়ি নিয়ে সাকলায়েনের বাসায় যান এবং গভীর রাতে বেরিয়ে আসেন। অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর গোলাম সাকলায়েনকে ডিবি থেকে বদলি করা হয়েছিল।
পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পায় ওই কমিটি। এরপর ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ তাকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানে’র বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের (পিএসসিতে) পরামর্শ চেয়ে চিঠি পাঠায়। এরই মধ্যে মতামত এসেছে পিএসসি থেকে। সেই মতামত অনুযায়ীই নেওয়া হচ্ছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
পিএসসিতে পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, ডিবি গুলশান বিভাগের এডিসি থাকাকালে নায়িকা পরীমণির সঙ্গে ঘটনাক্রমে দেখা এবং যোগাযোগ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় তিনি নায়িকা পরীমনির বাসায় নিয়মিত রাত্রিযাপন করতে শুরু করেন।
পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখা থেকে দেওয়া তার ফোনের সিডিআর অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমনির বাসায় অবস্থান করেছেন। তার ও পরীমনির মোবাইল ফোনে আদান-প্রদানকৃত মেসেজ ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথোপকথন সাধারণ পরিচিতি বা পেশাগত প্রয়োজনে স্থাপিত কোনো সম্পর্কের নয়; বরং অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক।
চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গোলাম সাকলায়েনের স্ত্রী বাসায় না থাকা অবস্থায় ২০২১ সালের ১ আগস্ট পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নায়িকা পরীমনি তার (সাকলায়েন) রাজারবাগে সরকারি বাসায় যান। প্রায় ১৭ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন। পরদিন ২ আগস্ট রাত ১টা ৩০ মিনিটে বাসা ত্যাগ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, সাকলায়েন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে সরকারি দায়িত্বের বাইরে নায়িকা পরীমনির সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। বলা হয়, সাকলায়েন বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক। এর পরও পরীমনির সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, পরীমনির সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন এবং নিজের সরকারি বাসভবনে নিজ স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি বেশ আলোচিত হলেও আমার কাছে আপডেট নেই। সংশ্লিষ্ট শাখা ভালো বলতে পারবে। মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তালুকদার বিষয়টি নিয়ে টেলিফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
