

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই একটি দেশের উন্নয়ন টেকসই হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে কোনো রাষ্ট্রের উন্নয়ন পূর্ণতা পায় না।’
রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এবং নারীদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে ঘরে-বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল অর্জন করা সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাদার অব ডেমোক্রেসি খালেদা জিয়া যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারী বিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৭৮ সালে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে এই মন্ত্রণালয়কে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তর করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন, যা নারীর ক্ষমতায়নে একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত ছিল।
তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদার করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরকার স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সাইবার বুলিং অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই লক্ষ্য যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে কাজ করতে পারবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।
মন্তব্য করুন