

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সকালের নাস্তা দিনের প্রথম খাবার। দীর্ঘ রাতের বিরতির পর শরীরের শক্তি জোগানো, মনোযোগ ধরে রাখা এবং সারাদিনের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে পুষ্টিকর নাস্তার বিকল্প নেই। তবে ব্যস্ততার কারণে অনেকেই এমন কিছু খাবার বেছে নেন, যা সাময়িকভাবে পেট ভরালেও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়।
পুষ্টিবিদেরা বলছেন, সকালের নাস্তায় অতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত শর্করা ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা ঘটিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।
ডোনাট, কেক, মিষ্টি পেস্ট্রি কিংবা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত সিরিয়াল অনেকের কাছে জনপ্রিয় সকালের খাবার। কিন্তু এসব খাবারে সাধারণত চিনি বেশি এবং আঁশ ও প্রোটিন কম থাকে। ফলে এগুলো দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে পারে না।
একইভাবে তেলে ভাজা পুরি, সিঙ্গারা, সমুচা বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত পরোটা নিয়মিত সকালের নাস্তা হিসেবে খেলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালোরি যোগ হতে পারে। প্রক্রিয়াজাত মাংস, যেমন সসেজ বা সালামিতেও তুলনামূলক বেশি সোডিয়াম ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকতে পারে।
অনেকেই সকালে শুধু এক কাপ মিষ্টি কফি বা চিনিযুক্ত ফলের পানীয় খেয়ে দিনের কাজ শুরু করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া যায় না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লান্তি বা ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সকালের নাস্তায় প্রোটিন, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সমন্বয় রাখার পরামর্শ দেন। ডিম, ওটস, চিনি ছাড়া দই, মৌসুমি ফল, সম্পূর্ণ শস্যের রুটি, বাদাম এবং ডাল বা ছোলার মতো খাবার দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে সবার খাদ্যচাহিদা এক নয়। ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণের জন্য চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।