

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ বা তিরিশের কোঠায় পা দিতেই মাথায় দু-একটা সাদা চুল দেখে চমকে ওঠেননি- এমন মানুষ আজকের দিনে খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
বয়স হওয়ার আগেই কেন এমন হচ্ছে? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই অকালপক্কতার (Premature Greying) পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার কিছু ভুল এবং শারীরিক জটিলতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ৪টি প্রধান কারণে অসময়ে চুল পেকে সাদা হয়ে যায়:
১. লাগামহীন মানসিক চাপ (Stress)
আজকের যান্ত্রিক জীবনে স্ট্রেস বা মানসিক চাপ এড়ানো কঠিন। কিন্তু এই অতিরিক্ত মানসিক চাপই আপনার চুলের কালচে রঙের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে।
অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে শরীরের স্বাভাবিক হরমোন চক্র ব্যাহত হয়। এটি সরাসরি চুলের মেলানিন (যা চুল কালো রাখে) উৎপাদনকারী কোষের ওপর আঘাত হানে। এর ফলে অনিদ্রা ও উদ্বেগের মতো সমস্যা তৈরি হয়, যা পরোক্ষভাবে চুলকে সাদা করে তোলে।
সঠিক লাইফস্টাইল ও নিয়মিত যোগব্যায়ামের মাধ্যমে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে চুলের স্বাভাবিক রঙ কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
২. অটো-ইমিউন রোগ (Auto-immune Diseases)
এটি আমাদের শরীরের ভেতরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি জটিলতা।
যখন শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজেরই সুস্থ কোষকে শত্রু মনে করে আক্রমণ করে, তখন তাকে অটো-ইমিউন রোগ বলে।
এই রোগে শরীরের প্রতিরোধী কোষগুলো চুলের মেলানিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে চুল তার স্বাভাবিক পিগমেন্ট হারিয়ে দ্রুত সাদা হতে শুরু করে।
৩. ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি
শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং রক্তের লোহিত কণিকা সতেজ রাখতে ভিটামিন বি-১২ অপরিহার্য। চুলের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক রঙ ধরে রাখতেও এই ভিটামিনের জুড়ি নেই।
লোহিত কণিকার মূল কাজ হলো চুলের গোড়াসহ শরীরের সব অংশে সঠিক মাত্রায় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেওয়া। শরীরে ভিটামিন বি-১২ এর অভাব হলে চুলের কোষগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না।
ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অসময়েই চুলে বুড়োটে ভাব চলে আসে।
৪. ধূমপানের ক্ষতিকর অভ্যাস
ধূমপানের সঙ্গে অকালপক্কতার সরাসরি এবং অত্যন্ত মারাত্মক সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের ৩০ বছরের আগেই চুল পেকে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি।
তামাকের বিষাক্ত উপাদানগুলো চুলের কোষের মারাত্মক ক্ষতি করে। ধূমপানের ফলে শরীরের রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যার ফলে চুলের গোড়ায় রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়। এটি দ্রুত চুল পাকার পাশাপাশি চুল ঝরে পড়ার হারও বাড়িয়ে দেয়।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হতাশ না হয়ে আজই নিজের লাইফস্টাইলে ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন আনুন। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, স্ট্রেস কমানো আর ধূমপান থেকে দূরে থাকাই পারে আপনার চুলের যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে!
