সোমবার
০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ প্রেসার লো হয়ে গেলে কী করবেন?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সাধারণত আমরা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন থাকি, নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেশার (হাইপোটেনশন) নিয়ে ততটা ভাবি না। তবে চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের মতো নিম্ন রক্তচাপও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে হঠাৎ ব্লাড প্রেশার লো হয়ে গেলে কিছু উপায়ে তা স্বাভাবিক করে আনা সম্ভব।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, একজন সুস্থ মধ্যবয়সী মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ হওয়া উচিত ১২০/৮০ মি.মি. মারকারি। তবে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মি.মি. মারকারি এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৬০ মি.মি. মারকারির নিচে নেমে গেলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বা লো প্রেশার বলা হয়।

অনেকের ধারণা কেবল দুর্বল স্বাস্থ্যের মানুষেরই লো প্রেশার হয়, যা সম্পূর্ণ ভুল। স্থূল বা মোটা মানুষেরও এই সমস্যা থাকতে পারে।

লো ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে করণীয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা

লো ব্লাড প্রেশারের সুনির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী ওষুধ বা চিকিৎসা নেই, মূলত উপসর্গ দেখেই এর চিকিৎসা করা হয়। তাৎক্ষণিক বা ফার্স্ট এইড হিসেবে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং ফলদায়ক।

এ ছাড়া ডাবের পানি ও এক চিমটি লবণ মিশ্রিত পানি পানেও দ্রুত প্রেশার বাড়ে।

কোলেস্টেরল বা হার্টের ঝুঁকি না থাকলে লবণ দিয়ে একটি সেদ্ধ ডিম বা প্রোটিন ডায়েট খাওয়া যেতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:

অনেকক্ষণ একই স্থানে বসে বা শুয়ে থাকবেন না এবং উঠার সময় সাবধানে ও ধীরে ধীরে উঠুন।

দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থেকে ঘন ঘন হালকা খাবার গ্রহণ করুন।

দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।

মানসিক চাপমুক্ত থাকুন এবং নিয়মিত আরামদায়ক ঘুমের অভ্যাস করুন।

লো ব্লাড প্রেশারের কারণ

লো ব্লাড প্রেশার হওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়া, ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত বমি, অপুষ্টি বা ঠিকমতো খাবার না খাওয়া এবং হজমে দুর্বলতা (ম্যালঅ্যাবসরবশন)।

এ ছাড়া রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া, দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগে আক্রান্ত থাকা, হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকেও রক্তচাপ কমে যেতে পারে।

নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণ ও এর থেকে মুক্তির উপায়।

এমনকি কোনো দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত রক্তপাত হলে কিংবা গর্ভবতী মায়েদের গর্ভধারণের প্রথম ছয় মাস হরমোনের প্রভাবে রক্তচাপ সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।

আবার যারা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খান, ওষুধের ডোজের তারতম্যের কারণেও প্রেশার লো হতে পারে।

নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণ ও উপসর্গ

কোনো ব্যক্তি লো ব্লাড প্রেশারে আক্রান্ত হলে কিছু স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন- মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, চোখে অন্ধকার বা ঝাপসা দেখা, শারীরিক দুর্বলতা এবং মানসিক অবসাদগ্রস্ততা।

অনেক সময় বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, এমনকি রোগী অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে না পারা, ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, তীব্র তৃষ্ণা পাওয়া এবং অস্বাভাবিক দ্রুত হৃৎস্পন্দন বা পালস রেট বেড়ে যাওয়া লো প্রেশারের অন্যতম লক্ষণ।

হাই নাকি লো প্রেশার- কোনটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?

লো ব্লাড প্রেশারের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে, যেমন- রক্তচাপ খুব বেশি নিচে না নামলে স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা বা হৃদরোগের ঝুঁকি কম থাকে। তবে প্রশ্ন যখন আসে- কোনটি বেশি খারাপ?

চিকিৎসকদের মতে, তাৎক্ষণিক ঝুঁকির বিচারে লো প্রেশার বেশি বিপজ্জনক। প্রেশার হঠাৎ খুব বেশি নেমে গেলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃৎপিণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

ফলে অঙ্গগুলো বিকল হয়ে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা রোগী 'শকে' চলে যাওয়ার মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, উচ্চ রক্তচাপ মূলত দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের ক্ষতি করে থাকে।

যদি পানিশূন্যতা বা ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার কারণে সাময়িক প্রেশার লো হয়, তবে খাবার স্যালাইন বা প্রাথমিক পরিচর্যাতেই তা ঠিক হয়ে যায়।

কিন্তু যাদের দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক লো প্রেশারের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবহেলা না করে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মূল কারণটি শনাক্ত করা উচিত। অবহেলা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Portugal VS Spain
Scheduled
07 Jul, 01:00 AM
VS
World Cup