

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নুমেরেসি (এফএলএন) কার্যক্রমের তদারকিতে শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে ছয়জন শিক্ষককে সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমাজে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক যে বিদ্যালয়ে কর্মরত, সেই বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় বিকল্প সহযোগী শিক্ষক বা পৃথক পরিদর্শন টিম গঠনের দাবি জানিয়েছেন কয়েকজন প্রধান শিক্ষক।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক অফিস আদেশে দেখা যায়, এফএলএন কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য উপজেলার কয়েকজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্ধারিত বিদ্যালয় পরিদর্শনে অংশ নেবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, এফএলএন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন ও তদারকির মূল দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের। একই উপজেলার কর্মরত কোনো শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয় পরিদর্শনের দায়িত্ব দিলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বৈষম্য বা প্রতিহিংসার কারণে ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভুলভাবে প্রভাবিত করার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিজ বিদ্যালয়ের পরিদর্শনে অংশ না নিয়ে অন্য কোনো সহযোগী শিক্ষক দায়িত্ব পালন করলে স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. জাকিরুল হাসান বলেন, “এটি কোনো মূল্যায়ন নয়, বরং একটি বেসলাইন সার্ভে। বর্তমানে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিন মাস পর পুনরায় মূল্যায়নের মাধ্যমে অগ্রগতি যাচাই করা হবে। এখানে পক্ষ নিরপেক্ষ নাই। সহযোগী শিক্ষকদের টিমভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেই সুন্দাদিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এভাবে কাজ করেছি।”
হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, “সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সংকট থাকায় সহযোগিতার জন্য প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কোথাও অনিয়ম বা পক্ষপাত থাকলে পরবর্তীতে ঢাকার পরিদর্শন টিমের মূল্যায়নে বিষয়টি উঠে আসবে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এফএলএন কার্যক্রমের নীতিগত দিকনির্দেশনা দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব পালন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE)। উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করেন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা।