

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গরমের এই সময়ে আমাদের ঘরে ঘরে এসি এখন আর বিলাসবহুল কোনো জিনিস নয়, বরং এটি আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
তবে অনেকেই একটি অদ্ভুত ও বিরক্তিকর সমস্যায় পড়েন- "এসি তো বন্ধই রাখি, তাও মাস শেষে এত বিদ্যুৎ বিল কেন আসছে?"
শুনতে অবাক লাগলেও এটি কোনো অলৌকিক বিষয় নয়। আমাদের কিছু ভুল অভ্যাস আর ছোটখাটো কারিগরি সমস্যার কারণেই এমনটা হয়।
১. রিমোট দিয়ে বন্ধ করলেও 'স্ট্যান্ডবাই মোড' চালু থাকে
আমরা অনেকেই এসি চালানো শেষে শুধু রিমোটের পাওয়ার বাটনটি চেপে বন্ধ করে দিই। মনে হয় এসি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু আসলে তা নয়।
এসি তখন 'স্ট্যান্ডবাই মোড'-এ চলে যায়। এর ফলে এসির ভেতরের মনিটর ডিসপ্লে, রিমোট সেন্সর বা ওয়াই-ফাই মডিউলগুলো অনবরত সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ টানতে থাকে।
বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'ফ্যান্টম লোড' বা অদৃশ্য বিদ্যুৎ খরচ। সারাদিন এভাবে প্লাগ যুক্ত থাকলে মাস শেষে বিল অনেকটাই বেড়ে যায়।
২. আউটডোর ইউনিটের লুকিয়ে থাকা সমস্যা
রিমোট দিয়ে এসি বন্ধ করলে ঘরের ভেতরের অংশ (ইনডোর) বন্ধ হলেও, অনেক সময় ভেতরের সার্কিট বা রিলে নষ্ট থাকার কারণে ঘরের বাইরের অংশটি (আউটডোর ইউনিট বা কম্প্রেসার) বন্ধ হয় না।
যেহেতু আউটডোর ইউনিটটি বাইরে বা ছাদে থাকে, তাই আমরা সহজে টের পাই না যে এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে ২৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ খাচ্ছে। এটি বিদ্যুৎ অপচয়ের একটি বড় কারণ।
৩. বারবার এসি চালু ও বন্ধ করার বদ অভ্যাস
অনেকের ধারণা, ঘর কিছুটা ঠান্ডা হলেই এসি বন্ধ করে দেওয়া এবং আবার গরম লাগলে চালু করা বুঝি সাশ্রয়ী পদ্ধতি। কিন্তু এটি একদম ভুল ধারণা, বিশেষ করে নন-ইনভার্টার এসির ক্ষেত্রে।
এসি যখন প্রথম চালু হয়, তখন ঘর ঠান্ডা করার জন্য কম্প্রেসারকে সবচেয়ে বেশি শক্তি দিয়ে কাজ শুরু করতে হয়। তাই বারবার অন-অফ করলে বিদ্যুৎ বিল কমার চেয়ে উল্টো অনেক বেশি বেড়ে যায়।
৪. নোংরা ফিল্টার ও যত্নের অভাব
এসি যদি দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা হয়, তবে এর ফিল্টারে প্রচুর ধুলোবালি ও ময়লা জমে। ফলে পরবর্তীতে এসি চালু করার পর ঠান্ডা বাতাস বের হতে বাধা পায়।
তখন ঘর ঠান্ডা করতে এসিকে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় ধরে এবং অতিরিক্ত চাপ নিয়ে চলতে হয়। এর ফলে আপনি হয়তো অল্প সময় এসি চালাচ্ছেন, কিন্তু নোংরা ফিল্টারের কারণে সেই অল্প সময়েই এটি বিশাল অঙ্কের বিদ্যুৎ গ্রাস করে নেয়।
বিল কমাতে আপনার করণীয়
এই অদৃশ্য বিদ্যুতের অপচয় রোধ করতে এবং পকেটের টাকা বাঁচাতে নিচের সহজ নিয়মগুলো মেনে চলুন:
মেইন সুইচ বন্ধ করুন: এসি ব্যবহার শেষে শুধু রিমোটের ওপর ভরসা না করে, দেয়ালের মেইন সুইচ বা প্লাগটি অবশ্যই বন্ধ করে দিন। এতে স্ট্যান্ডবাই মোডের বিদ্যুৎ খরচ একবারে শূন্য হয়ে যাবে।
নিয়মিত সার্ভিসিং: বছরে অন্তত ২ থেকে ৩ বার অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসির ভেতরের ও বাইরের অংশ ভালো করে পরিষ্কার এবং সার্কিট পরীক্ষা করান।
সঠিক তাপমাত্রা (২৪°C - ২৬°C): এসি সবসময় ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে চালিয়ে রাখুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতি ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য প্রায় ৫% থেকে ৮% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
ইনভার্টার এসি ব্যবহার করুন: সম্ভব হলে পুরোনো এসি বদলে আধুনিক 'ইনভার্টার এসি' ব্যবহার করুন। এগুলো ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী নিজে থেকেই বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণ করে বিল কমিয়ে আনে।
এসি বন্ধ থাকার পরও বিল বাড়ার মূল কারণ আমাদের অসচেতনতা এবং এসির সঠিক যত্ন না নেওয়া।
রিমোটের পাশাপাশি দেয়ালের মেইন সুইচটি বন্ধ করার ছোট একটি অভ্যাস এবং নিয়মিত এসির রক্ষণাবেক্ষণ করলেই ঘরের আরাম বজায় রেখে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব।
