

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর এবারই সবচেয়ে বড় মাসিক দরপতনের মুখে রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে-এমন প্রত্যাশার প্রভাব সরাসরি পড়েছে স্বর্ণবাজারে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৫৬ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে আসে।
একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৩০ ডলারে।
চলতি মাসে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমেছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। ফলে টানা চতুর্থ মাসের মতো দরপতনের পথে রয়েছে স্বর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতন।
শুধু মাসিক নয়, চলতি প্রান্তিকেও স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রান্তিকভিত্তিক পতনের মুখে রয়েছে বাজারটি। একই সঙ্গে ২০১৩ সালের জুন প্রান্তিকের পর এটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা নতুন করে বেড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার আরও বাড়াতে পারে-এমন ধারণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জোরালো হয়েছে।
মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেইর বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলার-এই তিনটি কারণ একসঙ্গে স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সুদের হার বেশি থাকলে সুদবিহীন এই সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট সিলভারের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৩ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৫৫৭ দশমিক ২১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২০৮ দশমিক ১৭ ডলারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতেও স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
