সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে ভারতকে পাকিস্তানের কড়া হুঁশিয়ারি

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১১:১৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

সিন্ধু পানিচুক্তি (আইডব্লিউটি) ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা আবারও সামনে এসেছে। পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে। এ সময় তিনি বলেন, কেউ পাকিস্তানের পানির অধিকারে ‘হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে ফেলা হবে’।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মালিকের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য, পাকিস্তান কোনোভাবেই চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য পানির অধিকার থেকে সরে আসবে না।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়, মালিক দাবি করেন, ভারতের শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তানে পানির প্রবাহ বন্ধের কথা বলেছে। তার মতে, এমন উদ্যোগ শুধু পানিবণ্টনের প্রশ্ন নয়; এটি পাকিস্তানের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর জীবিকা কৃষিনির্ভর। তাই পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে কর্মসংস্থান, খাদ্য উৎপাদন এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গও তোলেন পাকিস্তানের এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও উজান থেকে ভাটিতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে। সে ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি থাকার পরও পানি আটকে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

একই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিচুক্তি এখনো আইনগতভাবে কার্যকর। তার দাবি, এই চুক্তি কোনো পক্ষ একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনও পাকিস্তানের এই অবস্থানকে সমর্থন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার পানি ইস্যুকে পাকিস্তানের ‘লাইফলাইন’ ও ‘রেডলাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সিন্ধু নদব্যবস্থায় ভারতের জন্য নির্ধারিত পানির সম্পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় নয়াদিল্লি। তার দাবি, ভারতের প্রাপ্য পানির কোনো অংশই পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিচুক্তির মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদী ও এর উপনদীগুলোর পানিবণ্টন ও ব্যবস্থাপনার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চুক্তি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন