

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চিকিৎসার দুনিয়া কতটা বদলে যেতে পারে, তার এক দারুণ উদাহরণ ব্রাজিলের বিজ্ঞানীদের এই সাম্প্রতিক গবেষণা। আমরা যে তেলাপিয়া মাছকে সাধারণত রান্নার পদ হিসেবেই চিনি, তার ফেলে দেওয়া ছাল বা চামড়াই এখন হয়ে উঠেছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নতুন বিস্ময়!
অগ্নিদগ্ধ বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের নিরাময়ে এই আবিষ্কার কীভাবে বিপ্লব আনতে চলেছে, তা দেখে নেওয়া যাক:
কেন বিকল্প হিসেবে তেলাপিয়ার ছাল?
সাধারণত গভীর ক্ষত বা পুড়ে যাওয়া চামড়া ঠিক করতে 'স্কিন গ্রাফটিং' বা ত্বক প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এর জন্য সুস্থ কোষের দাতা খুঁজতে হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এই সমস্যার সহজ ও সস্তা সমাধান দিচ্ছে তেলাপিয়ার চামড়া। কোনো রকম জটিল অস্ত্রোপচার বা কৃত্রিম ওষুধ ছাড়াই এটি সরাসরি ক্ষত নিরাময়ে কাজ করতে পারে।
যেভাবে কাজ করে এই প্রাকৃতিক ব্যান্ডেজ
কোলাজেনের জোগান: তেলাপিয়ার ছালে প্রচুর পরিমাণে টাইপ-১ কোলাজেন থাকে, যা মানুষের ত্বকের কোষ গঠনে অত্যন্ত জরুরি। এটি ক্ষতিগ্রস্ত চামড়াকে দ্রুত জুড়তে সাহায্য করে।
সংক্রমণ রোধ ও প্রদাহ নাশ: এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ক্ষতস্থানে কোনো রকম ব্যাকটেরিয়া বা ইনফেকশন হতে দেয় না এবং জ্বালাপোড়া কমায়।
কোষের দ্রুত বৃদ্ধি: এই মাছের চামড়ায় থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড (যেমন অ্যালানিন ও প্রোলিন) এবং বিশেষ পেপটাইড ত্বকের নতুন কলা বা টিস্যু তৈরিতে ফুয়েলের মতো কাজ করে।
ব্যবহারের পদ্ধতি ও সুবিধা
গবেষণাগারে বিশেষ প্রক্রিয়াকরণ: নদী বা বাজার থেকে আনা মাছের ছাল সরাসরি ক্ষতস্থানে লাগানো হয় না। প্রথমে গবেষণাগারে এটিকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত বা স্টেরিলাইজ করা হয়, যাতে কোনো আঁশটে গন্ধ বা জীবাণু না থাকে।
ব্রাজিলে প্রায় শতাধিক অগ্নিদগ্ধ রোগীর ওপর এটি পরীক্ষা করে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গেছে।
কোনো বাড়তি ড্রেসিং নয়: ক্ষতস্থানে একবার এই ছালের প্রলেপ দিয়ে দিলে বারবার ব্যান্ডেজ খোলার বা ওষুধ দেওয়ার ঝামেলা থাকে না।
ব্যথামুক্ত নিরাময়: সাধারণ ব্যান্ডেজ খোলার সময় যে তীব্র যন্ত্রণা হয়, এখানে সেই ভয় নেই। নতুন চামড়া গজানোর পর মাছের ছালটি আপনাআপনি শুকিয়ে খসে পড়ে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
আমাদের রান্নাঘরের পরিচিত তেলাপিয়া এখন বিশ্বমঞ্চে জীবন বাঁচানোর কারিগর। শুধু ব্রাজিলই নয়, আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ মায়ামি এবং ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার গবেষকেরাও এখন এই ছাল ব্যবহার করে উন্নতমানের বাণিজ্যিক ব্যান্ডেজ তৈরির কাজ চালাচ্ছেন।
এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাজারে এলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ যেমন কমবে, তেমনই দূর হবে ত্বক প্রতিস্থাপনের দীর্ঘ অপেক্ষার দিন।
