

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমাদের মধ্যে অনেক ভদ্র লোকই আছেন, দিনে ১০-১২ কাপ চা–কফি না পান করলে তাদের দুনিয়া ওলট পালট হয়ে যায়। ঠিক অনেকটা শৈশবে পড়া সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘অদ্ভুত চা খোর’ গল্পের মতো।
সেই প্রাচীন আমল থেকে জনপ্রিয় দুই পানীয় চা-কফি। দুটোতেই রয়েছে ক্যাফেইন। আমাদের বিভিন্ন হরমনাল বিষয় এবং মানসিক ও শারীরিক নানা কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে এই ক্যাফেইন। গবেষণায় দেখা গেছে, মোটামুটি ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন বেশির ভাগ মানব দেহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
তবে এর চেয়ে বেশি ক্যাফেইন আমাদের দেহের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। ক্যাফেইন তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষতি না করলেও ধীরে ধীরে বয়ে আনতে পারে বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক বিপর্যয়। মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীর ডিহাইড্রেটেড করা থেকে শুরু করে কারণ হতে পারে মাইগ্রেনের মতো অসহ্য যন্ত্রণার।
অনবরত চা-কফি পান করলে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মানব দেহে দেখা দিতে পারে-
১. ঘুমের ব্যাঘাত :
ক্যাফেইন আমাদের ঘুমের ভাব বা ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করে জাগিয়ে রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন রাতে অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। শরীর সুস্থ রাখতে পরিপূর্ণ ঘুমের বিকল্প নেই। তাই শান্তির ঘুমের জন্য পরিমিত চা কফিই হতে একমাত্র সমাধান।
২. পেটের সমস্যা :
একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, অনেকেই চা-কফি খাওয়ার পরপরই ওয়াশরুমের যান। এর কারণ ক্যাফেইন শুধু আমাদের মস্তিষ্কের উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে তা নয়, মূত্রথলিতেও এর চাপ পড়ে। খালি পেটে কফি বা চা খেলে বদহজম হতে পারে। চায়ের ট্যানিন আয়রন শোষণে বাধা দেয়, যা রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া সৃষ্টি করতে পারে। আবার গ্যাসট্রিক বা অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালার মতো অসহ্য যন্ত্রণারও কারণ হতে পারে।
৩. রক্তচাপের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব :
ক্যাফেইনের তীব্র উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী ক্ষমতা আমাদের রক্তনালী ও ধমনিতে চাপ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই উচ্চ রক্তচাপ হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে, যা পরবর্তী সময়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
৪. দ্বিগুণ ক্লান্তিভাব :
আমরা সাধারণত ক্লান্তি দূর করতেই চা-কফি খাই। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাফেইন সাময়িকভাবে কয়েক ঘণ্টার জন্য আমাদের মনোযোগ, মানসিক শক্তি ও মেজাজ চাঙ্গা রাখলেও, এর প্রভাব কেটে যাওয়ার পর শরীরে দ্বিগুণ ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। তাই দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এড়াতে ক্যাফেইন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
৫. আসক্তি :
অতিরিক্ত চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস এক সময় তীব্র আসক্তিতে রূপ নিতে পারে। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন আমাদের মস্তিষ্কে অনেকটা কোকেন বা অ্যাম্ফিটামিনের মতো মাদকের স্টাইলে প্রভাব ফেলে। যদিও এই আসক্তি মাদকের মতো জীবননাশী বা ততটা তীব্র নয়, তবুও ক্যাফেইনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানুষের স্বাভাবিক আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন বা খামখেয়ালিপনা তৈরি করতে পারে।
৬. তীব্র দুশ্চিন্তা ও প্যানিক অ্যাটাক :
ক্যাফেইন মূলত শরীরের ক্লান্তি উৎপাদনকারী উপাদান ‘অ্যাডেনোসিন’কে ব্লক করে এবং ‘অ্যাড্রেনালিন’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে আমাদের চনমনে রাখে। কিন্তু যখনই ক্যাফেইনের ডোজ বেশি হয়ে যায়, তখন এই হরমোনের অতিরিক্ত কার্যকারিতার কারণে শরীরে তীব্র দুশ্চিন্তা ও নার্ভাসনেস তৈরি হয়।
বিশেষ করে, দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে সংবেদনশীল মানুষদের ক্ষেত্রে প্যানিক অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ক্যাফেইন তখনই উপকারী, যখন তা গ্রহণ করা হয় পরিমিত মাত্রায়। নিজের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আজই আপনার দৈনিক চা-কফি পানের পরিমাণের দিকে নজর দিন।
