মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রক্তশূন্যতার কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৯ পিএম আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand

রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া একটি পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে এ অবস্থাকে রক্তশূন্যতা বলা হয়। হিমোগ্লোবিন শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই হিমোগ্লোবিন কমে গেলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রক্তশূন্যতা কেন হয়?

রক্তশূন্যতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো আয়রনের ঘাটতি। খাবারে পর্যাপ্ত আয়রন না থাকলে এ সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া ভিটামিন বি১২ ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ, সংক্রমণ, ক্যানসার, থাইরয়েডের সমস্যা, অস্থিমজ্জার জটিলতা এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ থেকেও অ্যানিমিয়া হতে পারে।

নারীদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে আয়রনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

আয়রনের ঘাটতি হওয়ার কারণ-

  • খাবারে পর্যাপ্ত আয়রনের অভাব
  • অতিরিক্ত মাসিকের রক্তক্ষরণ
  • পেপটিক আলসার
  • দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষরণ
  • কৃমির সংক্রমণ
  • পাইলস
  • পাকস্থলী বা অন্ত্রের কিছু রোগ
  • দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন

গর্ভাবস্থায় শরীরে আয়রনের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই এ সময় আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রক্তশূন্যতার লক্ষণ কী?

  • চোখ-মুখ ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
  • দুর্বল ও ক্লান্ত লাগা
  • অবসাদ
  • মাথা ঘোরা
  • মাথাব্যথা
  • চোখে ঝাপসা দেখা
  • মুখ বা ঠোঁটে ঘা হওয়া
  • অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট

রক্তশূন্যতা গুরুতর হলে বুক ধড়ফড়, বুকে অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় হৃদ্যন্ত্রের ওপরও চাপ পড়তে পারে।

কীভাবে নিশ্চিত হবেন?

শুধু লক্ষণ দেখে রক্তশূন্যতা নিশ্চিত করা যায় না। সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC) পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

প্রয়োজনে রক্তশূন্যতার কারণ জানতে আয়রন, ফেরিটিন, ভিটামিন বি১২, ফলিক অ্যাসিডসহ অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।

চিকিৎসা কী?

রক্তশূন্যতা ধরা পড়লেই নিজের ইচ্ছায় আয়রনের ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। প্রথমে এর কারণ শনাক্ত করা জরুরি। আয়রনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আয়রনের ওষুধ দিতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে শিরাপথে আয়রন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

অতিরিক্ত মাসিক, দীর্ঘদিন পেটের সমস্যা, পাইলস বা অন্য কোনো কারণে রক্তক্ষরণ থাকলে সেই সমস্যারও চিকিৎসা করতে হবে।

তাই দীর্ঘদিন দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা ফ্যাকাশে ভাব থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করানো ভালো।

স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য সাধারণ ধারণার জন্য। ব্যক্তিভেদে রোগের কারণ ও চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank