

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে। গত এক সপ্তাহে এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় ২৮ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সামুদ্রিক পরিবহন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৭৭টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল আরও বেশি। বিশেষ করে পণ্যবোঝাই জাহাজের সংখ্যা ৪৫ থেকে কমে ৩৩টিতে নেমেছে।
হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ধরনেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কেপলারের তথ্য বলছে, ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রণালিটি অতিক্রম করা ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টি ইরানের নির্ধারিত বিকল্প রুট ব্যবহার করেছে। অর্থাৎ জাহাজগুলো প্রচলিত নৌপথ এড়িয়ে ইরানের নির্দেশিত পথে চলেছে।
শুধু ওই সময়েই নয়, ৬ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা আটটি জাহাজের সাতটিই ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে কেপলার।
কেপলারের বিশ্লেষণে, জাহাজ চলাচলের এই পরিবর্তনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কারণ রয়েছে। এতে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজের নৌ চলাচলে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে উপসাগরীয় দেশগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও পড়তে পারে।
তবে এই পরিস্থিতি সাময়িক নাকি সামনে আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথে জাহাজ চলাচল কমে গেলে এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান প্রণালিটি বন্ধ রাখায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে জ্বালানির দাম বেড়েছে।


