

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিড়াল আর মানুষ- দুজনের জন্যই দাদ বা রিংওয়ার্ম বেশ জঘন্য এক সমস্যা। ছোঁয়াচে এই ছত্রাকজনিত রোগটি পোষ্য থেকে মানুষে আর মানুষ থেকে পোষ্যে খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে বর্ষাকালের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এর উপদ্রব অনেক বেড়ে যায়।
বিড়ালের দাদ হলে যেসব লক্ষণ দেখা যায়
গোলাকার অংশে লোম উঠে যাওয়া: বিড়ালের শরীরের কোনো নির্দিষ্ট জায়গা থেকে গোল হয়ে লোম উঠে খালি হয়ে যেতে পারে।
ত্বক লাল হওয়া ও ফোলা: প্রচণ্ড চুলকানির কারণে আক্রান্ত স্থানটি লাল হয়ে ফুলেও উঠতে পারে।
ঘন ঘন চুলকানো: খেয়াল করবেন বিড়ালটি শরীরের কোনো বিশেষ জায়গায় বার বার নখ দিয়ে আঁচড়াচ্ছে বা কামড়ানোর চেষ্টা করছে।
লোমের রঙ বদলে যাওয়া: আক্রান্ত জায়গার আশপাশের লোমের স্বাভাবিক রঙ বদলে যেতে পারে।
নখে সংক্রমণ: অনেক সময় এই ফাঙ্গাস নখ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে নখ নষ্ট করে ফেলে।
গ্র্যানুলোমা (গভীর ক্ষত): ইনফেকশন খুব বেশি বেড়ে গেলে চামড়ার গভীরে টিউমারের মতো শক্ত গোল চাকা তৈরি হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে গ্র্যানুলোমা বলে।
জরুরি সতর্কতা: অনেক সময় বিড়ালের শরীরে ফাঙ্গাস থাকলেও বাইরে থেকে কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। এই 'উপসর্গহীন' বিড়ালগুলো আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এদের না জেনেই আমরা কোলে নিই বা আদর করি আর নিজেদের শরীরে জীবাণু ছড়িয়ে ফেলে।
সংক্রমণ ছড়ায় কীভাবে এবং কাদের ঝুঁকি বেশি?
জীবাণুর স্থায়িত্ব: এই ছত্রাক বা ফাঙ্গাস কিন্তু বেশ জাঁদরেল! বিছানা, কার্পেট বা বিড়ালের চিরুনিতে এরা প্রায় ১৮ মাস (দেড় বছর) পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
কাদের বেশি হয়: একেবারেই ছোট ছানা (কিটেন) এবং বয়স্ক বিড়ালদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় এদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
চিকিৎসা: লক্ষণ দেখে বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে বিশেষ 'উডস ল্যাম্প' (Wood's lamp) আলোর নিচে ফেলে এই ইনফেকশন শনাক্ত করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে মলম বা খাওয়ার ওষুধ দিলে সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে বিড়াল সুস্থ হয়ে ওঠে।
মানুষ হিসেবে আপনার সতর্কতায় যা করণীয়
হাত ধোয়ার অভ্যাস: বিড়ালকে আদর করা বা কোনে নেওয়ার পর প্রতিবার ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।
বিছানা ও ঘর পরিষ্কার: বিড়াল যে জায়গায় ঘুমায়, বসে বা খেলে, সেই জায়গাগুলো নিয়মিত ডেটল বা জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।
দ্রুত চিকিৎসা: বিড়ালের গায়ে সামান্যতম লোম ওঠার ছোপ বা লালচে ভাব দেখলে অবহেলা না করে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
একটু সচেতনতা আর নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাই পারে আপনার আদরের পোষ্য এবং আপনার পরিবারকে এই বিরক্তিকর দাদ থেকে দূরে রাখতে!
