

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দিল্লির যন্তর মন্তরে আবারও অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। সোমবার পুলিশি অভিযানের পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নতুন করে সেখানে জড়ো হন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকেরা। আগের দিনের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের ঘটনার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বিক্ষোভকারীদের দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সিজেপি। ফলে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবারের সংঘর্ষের পর পুলিশ যন্তর মন্তরের অস্থায়ী মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে দেয়। তবে মঙ্গলবার ভোর থেকেই আন্দোলনকারীরা আবার সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার সিজেপির ডাকে আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো শিক্ষার্থী রাস্তায় নামলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে শতাধিক পুলিশ সদস্য এবং কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। সহিংসতা, ভাঙচুর ও সরকারি সম্পদের ক্ষতির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশ অমান্য করেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে এবং এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
এদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ওপর থাকা চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
বৈঠকের পর সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, মন্ত্রী তাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কোনো দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে সোনম ওয়াংচুকও তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি জানিয়েছেন, তরুণ আন্দোলনকারীদের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।
ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে ওয়াংচুক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন অব্যাহত রাখার কথা জানান।
দিল্লিতে বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনেও পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার দিকেই এখন নজর রয়েছে।