

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেননি এমন মানুষ সত্যিই খুঁজে পাওয়া কঠিন। অনিয়মিত জীবনযাপন, প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া আর পর্যাপ্ত পানি না পানের অভ্যাসে এই কষ্টকর সমস্যাটি ঘরে ঘরে দেখা যায়।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুসি বেশ জনপ্রিয় হলেও, এর স্বাদ বা আঠালো ভাবের কারণে অনেকেই তা খেতে পারেন না।
১. ভেজানো কালো কিসমিসের পানি
কালো কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে সল্যুবল বা দ্রবণীয় ফাইবার থাকে, যা আমাদের হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
খাওয়ার নিয়ম: রাতে ঘুমানোর আগে ১০-১২টি কালো কিসমস ভালোভাবে ধুয়ে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে খালি পেটে পানিটুকু ফুটিয়ে হালকা গরম করে খেয়ে নিন এবং কিসমিসগুলো চিবিয়ে খান। কয়েকদিন নিয়ম করে খেলে চমৎকার ফল পাবেন।
২. ত্রিফলা চূর্ণ
আয়ুর্বেদে আমলকী, হরিতকী ও বহেড়ার মিশ্রণ অর্থাৎ ‘ত্রিফলা’কে পেটের নানা সমস্যার রামবাণ বলা হয়। এটি ন্যাচারাল ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে এবং পেট পরিষ্কার করতে দারুণ সাহায্য করে।
খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন রাতে খাওয়ার এক ঘণ্টা পর বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে ১ চা চামচ ত্রিফলা চূর্ণ মিশিয়ে খেয়ে নিন। নিয়মিত এটি খেলে সমস্যাটি স্থায়ীভাবে কমে আসবে।
৩. গরম দুধ ও খাঁটি ঘি
শুনতে কিছুটা অবাক লাগলেও, আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে গরম দুধের সঙ্গে গরুর খাঁটি ঘি মিশিয়ে খাওয়া কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি অত্যন্ত দ্রুত ও কার্যকর সমাধান। ঘি পরিপাকনালীকে মসৃণ করে, ফলে জমে থাকা মল সহজে বের হয়ে আসতে পারে।
খাওয়ার নিয়ম: রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে এক গ্লাস ভালো করে ফোটানো গরম দুধে ১ চা চামচ খাঁটি গাওয়া ঘি মিশিয়ে হালকা গরম থাকা অবস্থাতেই খেয়ে নিন। সকালে পেট বেশ পরিষ্কার অনুভব করবেন।
৪. কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস
একেবারে সহজ ও ঝটপট সমাধান হলো লেবুর রস। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলে এবং শরীর থেকে জমে থাকা বর্জ্য বের করে দিতে সাহায্য করে।
খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেকটা পাতিলেবুর রস ও সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে খালি পেটে খেয়ে নিন। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর পাশাপাশি হজমশক্তিও বাড়ায়।
জরুরি কিছু পরামর্শ: ঘরোয়া এসব টোটকার পাশাপাশি প্রতিদিন অবশ্যই কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করবেন। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল রাখার চেষ্টা করুন।
তবে আপনার সমস্যাটি যদি অনেক বেশি তীব্র হয় কিংবা মলত্যাগের সময় রক্তপাতের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে একদম দেরি না করে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
