

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছু সময় পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, বর্তমান বাস্তবতায় এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। বাজেটে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইএমএফের বাংলাদেশ ও হংকংবিষয়ক মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা সফর করে। এ সময় তারা অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে।
এসব আলোচনায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং এর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে জানতে চায় আইএমএফ। জবাবে অর্থ বিভাগ জানায়, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হয়নি। এর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন এখন প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইএমএফকে জানানো হয়, নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকার একবারে পুরো ব্যয় না করে দুই ধাপে এটি কার্যকরের পরিকল্পনা করছে। ফলে শুরুতেই বড় অঙ্কের অর্থের চাপ তৈরি হবে না।
বৈঠকে আইএমএফের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়, বাংলাদেশ যখন নতুন ঋণ সহায়তার জন্য সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন বড় ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করতে পারে। নতুন বেতন কাঠামোর কারণে ঋণের প্রয়োজন বাড়তে পারে বলেও তারা উল্লেখ করে।
তবে অর্থ বিভাগ জানায়, নতুন পে স্কেল কার্যকরের বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বাজেটেও বিষয়টি ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ফলে এখন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা কঠিন।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ সরাসরি পে স্কেল বাতিল বা স্থগিতের নির্দেশ দেয়নি। তবে বাস্তবায়নের আর্থিক প্রভাব, অর্থের উৎস এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়ে তারা বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
সরকারের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন পে স্কেল চালু হলে মূল্যস্ফীতির ওপর সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়ও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এবার মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের বেশি থাকায় এর প্রভাব কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ একটি বিশ্লেষণপত্র তৈরি করে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের কাছেও উপস্থাপন করেছে। এতে সম্ভাব্য প্রভাব ও তা মোকাবিলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।