

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাতের বেলা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর সমস্যা। সারাদিন অনায়াসে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া গেলেও রাতে বিছানায় শোয়ার পরই অনেকের নাক বন্ধ হয়ে আসে। এতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে এবং সকালে মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা গলায় জ্বালাপোড়া নিয়ে ঘুম ভাঙতে পারে।
অ্যাস্টার হোয়াইটফিল্ড হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও লিড কনসালটেন্ট ড. সুব্রত দাসের মতে, রাতে মানবশরীরে ঘটা বেশ কিছু স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণেই এই সমস্যাটি বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ও শোয়ার ভঙ্গি
রাতের বেলা নাক বন্ধ হওয়ার অন্যতম প্রাথমিক কারণ হলো শোয়ার ভঙ্গি। দিনের বেলা সোজা হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে মাধ্যাকর্ষণ বল নাকের মিউকাস ও তরল সহজে নিচে নেমে যেতে সাহায্য করে। তবে রাতে শুয়ে পড়লে মাধ্যাকর্ষণ কাজ না করায় নাকের নালিতে মিউকাস জমতে শুরু করে।
পাশাপাশি, রাতে শরীরে প্রদাহ প্রতিরোধকারী হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়, যার ফলে নাকের ভেতরের প্রদাহ বৃদ্ধি পায়।
এ ছাড়া, রাতে স্নায়ুতন্ত্রের পরিবর্তনের কারণে নাকের রক্তনালী ও টিস্যু প্রভাবিত হয়, যা মিউকাস উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়ে নাক বন্ধের অনুভূতি তৈরি করে।
বেডরুমের অ্যালার্জেন ও পরিবেশ
অ্যালার্জি রাতের বেলা নাক বন্ধ হওয়ার আরেকটি অন্যতম বড় কারণ। তোশক, বালিশ, কার্পেট, পর্দা ও স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালে থাকা ধুলাবালি, ডাস্ট মায়েট ও ছাতা/ছত্রাক (mold) অ্যালার্জির প্রধান উৎস। যারা এগুলোতে সংবেদনশীল, বেডরুমে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে তাদের নাকের নালিতে প্রদাহ শুরু হয়।
এর ফলে নাক বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি এবং চুলকানির মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
এসিড রিফ্লাক্সের প্রভাব
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে মাধ্যাকর্ষণ বলের অভাবে পাকস্থলীর এসিড সহজেই ওপরের দিকে অর্থাৎ গলায় উঠে আসতে পারে।
এই এসিড রিফ্লাক্স গলায় ইরিটেশন তৈরির পাশাপাশি অনেকের ক্ষেত্রে নাক বন্ধ হওয়ার অনুভূতি সৃষ্টি করে। রাতের বেলা নাক বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বুক জ্বালাপোড়া, মুখ টক হওয়া বা সকালে উঠে গলায় অস্বস্তি থাকলে এসিড রিফ্লাক্সের কথা বিবেচনা করা উচিত।
প্রতিরোধ ও সকালে করণীয়
নাক বন্ধ হওয়া প্রতিরোধে মূল কারণ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বেডরুম ও বিছানার চাদর নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং দেওয়ালে ছত্রাক থাকলে তা দূর করা জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শে প্রিভেন্টিভ ন্যাসাল স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। সকালে উঠে আলতোভাবে নাক পরিষ্কার করা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ন্যাসাল ওয়াশ করলে জমে থাকা মিউকাস বের হয়ে যায়।
গলায় অস্বস্তি থাকলে হালকা গরম লবণ-পানি দিয়ে কুলকুচি করা যেতে পারে। এ ছাড়া, মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য (ওরল হাইজিন) বজায় রাখাও জরুরি, কারণ মুখের ইনফেকশন অনেক সময় নাকের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।
সাময়িক নাক বন্ধ হওয়া চিন্তার বিষয় না হলেও, যদি এটি প্রতি রাতেই ঘটে এবং এর সাথে মাথাব্যথা, মুখে ব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা টানা নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো লক্ষণ থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুত্র: এনডিটিভি



