

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আধুনিক জীবনযাত্রার চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর অনিয়ন্ত্রিত হরমোনের কারণে বর্তমানে অনেক নারীরই প্রজনন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। অনেকের ক্ষেত্রে অল্প বয়সেই কমে যাচ্ছে ডিম্বাণুর সংখ্যা, আবার কারও ক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের জটিলতা।
তবে সঠিক সময়ে শরীরের সতর্কবার্তাগুলো চিনতে পারলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেসব লক্ষণ দেখলে আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে:
১. অনিয়মিত ঋতুস্রাব ও অতিরিক্ত রক্তপাত: মাসিক নিয়মিত না হওয়া, খুব ঘন ঘন হওয়া (২১ দিনের কম বিরতিতে) কিংবা মাসের পর মাস বন্ধ থাকা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
মাসিকের সময়ে তলপেট ও শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে অসহ্য যন্ত্রণা বা অতিরিক্ত রক্তপাত ফাইব্রয়েডের লক্ষণ হতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে মা হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।
২. এন্ডোমেট্রিয়োসিসের উপসর্গ: ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগে ও পরে তলপেট ও কোমরে তীব্র ব্যথা, বা মল-মূত্র ত্যাগের সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে যন্ত্রণা হওয়া এন্ডোমেট্রিয়োসিসের ইঙ্গিত দেয়। এতে ডিম্বাশয় ও ফ্যালোপিয়ান টিউবে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয়, যা প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৩. পিসিওএস (PCOS) ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, থুতনি বা শরীরে পুরুষদের মতো লোম গজানো, গালে জিদ্দি ব্রণ, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া এবং ঘন ঘন মেজাজ বদলানো পিসিওএসের অন্যতম লক্ষণ।
শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে এ জাতীয় সমস্যা দেখা দেয় এবং সন্তানধারণে জটিলতা তৈরি করে।
সময়মতো এ ধরনের লক্ষণ শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে বেশি বয়সেও সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে মা হওয়া সম্ভব।
তাই শরীরে এই ধরনের যেকোনো পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা না করে শুরুতেই অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সঠিক সময়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারলে জটিলতাগুলো সহজেই এড়ানো যায়- যা একজন নারীকে যেকোনো বয়সেই সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে মাতৃত্বের স্বাদ পেতে সাহায্য করবে।
