

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাইগ্রেন সাধারণ কোনো মাথাব্যথা নয়, বরং এটি স্নায়ুতন্ত্রের এক জটিল সমস্যা। তীব্র যন্ত্রণার পাশাপাশি এতে বমি ভাব কিংবা আলো ও শব্দে অতিরিক্ত অস্বস্তি হতে পারে, যা দৈনন্দিন কাজ একদম অচল করে দেয়।
কেবল ওষুধ খেলেই এটি সারে না, না বুঝে করা কিছু ভুল অভ্যাসও এর তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এমন ৫টি ভুলের আছে, যা মাইগ্রেনের রোগীদের এড়িয়ে চলা উচিত:
ওষুধ খেতে দেরি করা: ব্যথা শুরু হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ খেয়ে নেওয়া উচিত। ‘ব্যথা বাড়লে ওষুধ খাব’ ভেবে দেরি করলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায় এবং যন্ত্রণা ২-৩ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
ঘন ঘন পেইনকিলার খাওয়া: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একটুতেই ব্যথানাশক ওষুধ খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। অতিরিক্ত পেইনকিলার গ্রহণ থেকে নিজেই আবার মাথাব্যথা তৈরি হয় (মেডিকেশন ওভারইউজ হেডেক), যা কিডনি ও পাকস্থলীরও মারাত্মক ক্ষতি করে।
অনিয়মিত ঘুম: প্রয়োজনের চেয়ে কম বা বেশি- দুই ধরনের ঘুমই মাইগ্রেনের ব্যথা উসকে দেয়। তাই প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
ট্রিগার চিহ্নিত না করা: অতিরিক্ত কফি, চকলেট, পানিশূন্যতা, সকালের নাস্তা না খাওয়া, চড়া পারফিউম কিংবা মানসিক চাপের মতো বিষয়গুলো মাইগ্রেন বাড়িয়ে দেয়। নিজের ক্ষেত্রে কোনটা ব্যথার কারণ তৈরি করছে, তা খেয়াল রেখে ডায়েরিতে লিখে রাখা উচিত।
সমস্যাটিকে অবহেলা করা: সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ভুল ওষুধ খেলে মাইগ্রেনের স্থায়িত্ব ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এটি একটি জটিল সমস্যা, তাই অবহেলা না করে নিয়মিত সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, মাইগ্রেন জীবনধারাভিত্তিক একটি সমস্যা হওয়ায় শুধু ওষুধনির্ভর না হয়ে সচেতন হওয়াটাই সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক।
নিজের শরীরের সংকেতগুলো সঠিকভাবে বোঝা, ব্যথার কারণ বা ট্রিগারগুলো এড়িয়ে চলা এবং অনিয়মিত জীবনযাপনে লাগাম টানাই পারে এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে আপনাকে স্বস্তি দিতে।
তাই অবহেলা না করে আজই নিজের অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গুছিয়ে চলুন।
