

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামকে নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য করায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
শনিবার বিকেলে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত নোটিশে আব্দুল কাইয়ুমকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকেও আব্দুল কাইয়ুম রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যকে উদ্দেশ করে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
এ কারণে তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সামনে উপস্থিত হয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে টেকনাফ পৌর বিএনপির আওতাধীন ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে টেকনাফ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামকে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্দুল কাইয়ুম।
বক্তব্যে তিনি টেকনাফের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘একটা কনস্টেবলের মতোও লাগে না ওসিকে। আমার তো মনে হয় না, এই ওসি দিয়ে টেকনাফের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’
অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে টেকনাফে সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন যুবদলের এই নেতা। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রতি প্রশাসনে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।
আব্দুল কাইয়ুমের অভিযোগের বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম তখন বলেন, ‘অপহরণ, টাকা লুটসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।’
যুবদল নেতার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই দাবি করে ওসি বলেন, ‘কী কারণে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তিনি ভালো জানেন। তিনি নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
টেকনাফে সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যেই থানার ওসিকে নিয়ে যুবদল নেতার প্রকাশ্য মন্তব্য এবং এর পরদিনই কেন্দ্রীয় যুবদলের কারণ দর্শানোর নোটিশ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।