মঙ্গলবার
২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিভারের নীরব ঘাতক থেকে সতর্ক থাকবেন যেভাবে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, হজম ও বিপাকে সাহায্য করে, প্রয়োজনীয় ভিটামিন-খনিজ সঞ্চয় করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রোটিন তৈরি করে।

তবে চিন্তার বিষয় হলো, লিভার যখন ধীরে ধীরে অসুস্থ হতে থাকে, তখন আমরা তা সহজে টের পাই না।

সম্প্রতি MASLD (মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজ়িজ়)- যা আগে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ নামে পরিচিত ছিল- তার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। শুধু প্রবীণদের মধ্যেই নয়, তরুণদের মধ্যেও এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

লিভারের সমস্যা সহজে ধরা পড়ে না কেন?

লিভারকে বলা হয় শরীরের ‘নীরব অঙ্গ’। মূলত দুটি প্রধান কারণে লিভারের কোনো অসুখ বা সমস্যা শুরুতে বোঝা যায় না:

ব্যথার স্নায়ু না থাকা: লিভারের ভেতরে ব্যথার কোনো রিসেপ্টর বা স্নায়ু নেই, যা মস্তিষ্কে যন্ত্রণার সংকেত পাঠাতে পারে। তবে লিভারের ওপরের পাতলা আস্তরণ অর্থাৎ গ্লিসন ক্যাপসুলে স্নায়ু থাকে। লিভার অতিরিক্ত বড় হয়ে গেলে যখন এই আস্তরণে চাপ পড়ে, কেবল তখনই ব্যথা অনুভূত হয়।

অসাধারণ সহ্যক্ষমতা: লিভারের সহ্যক্ষমতা অনেক বেশি। এমনকি এর অনেকটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলেও এটি স্বাভাবিকভাবে নিজের কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

কীভাবে শুরু হয় এই রোগ?

মদ্যপান না করলেও লিভারে চর্বি জমতে পারে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় খাওয়া, শারীরচর্চার অভাব এবং দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাসের কারণে লিভারে ফ্যাট জমা শুরু হয়।

পরবর্তী সময়ে এই জমানো চর্বি থেকে প্রদাহ (ইনফ্ল্যামেশন) তৈরি হয় এবং লিভারের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এভাবেই ধীরে ধীরে MASLD-র সূত্রপাত ঘটে।

প্রাথমিক লক্ষণসমূহ

সাধারণত শুরুতে কোনো লক্ষণই থাকে না। তবে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে:

অকারণ ক্লান্তি ও সবসময় অবসন্ন লাগা

পেটের ওপরের ডান দিকে সামান্য অস্বস্তি

কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া

হুট করে ওজন বৃদ্ধি পাওয়া

এই লক্ষণগুলো খুব সাধারণ হওয়ায় অনেকেই গুরুত্ব দেন না, ফলে পরীক্ষা না করালে রোগটি অনেক দেরিতে ধরা পড়ে।

লিভার সুস্থ রাখার উপায়

সঠিক ওজন: শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা এবং সুষম খাবার খাওয়া।

শারীরিক সক্রিয়তা: নিয়মিত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করা।

বর্জনীয় অভ্যাস: ধুমপান ও মদ্যপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা।

জীবনযাত্রা: পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন