

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আদার পুষ্টিগুণ
রান্নাঘরের এক পরিচিত ও অপরিহার্য উপাদান আদা। তবে কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ানো কিংবা সর্দি-কাশি ও গলাখুসখুসে আরাম মেলাতেই এর গুণাগুণ সীমাবদ্ধ নয়। প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ চিকিৎসায় আদার ব্যবহার হয়ে আসছে অনন্য এক মহৌষধ হিসেবে।
১০০ গ্রাম আদায় রয়েছে ৮০ ক্যালোরি এনার্জি, ১৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেটসহ প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ফসফরাস, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।
শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর এই মসলাটি প্রতিদিনের ডায়েটে রাখলে হজমের সমস্যা দূর করা থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত নানা চমৎকার স্বাস্থ্যসুবিধা পাওয়া যায়।
প্রতি ১০০ গ্রাম আদায় আমরা পাই:
এনার্জি: ৮০ ক্যালোরি
কার্বোহাইড্রেট: ১৭ গ্রাম
পটাশিয়াম: ৪১৫ মিলিগ্রাম
ফসফরাস: ৩৪ মিলিগ্রাম
ফ্যাট: মাত্র ০.৭৫ গ্রাম
নিয়মিত আদা খাওয়ার ৮টি দারুণ উপকারিতা
১. শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক
আদায় রয়েছে ‘জিঞ্জেরল’ নামক একটি উপাদান, যার শক্তিশালী প্রদাহ-বিরোধী (anti-inflammatory) এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতা রয়েছে। এটি শরীরের ক্ষতিকারক ফ্রি-র্যাডিকেল ধ্বংস করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে দারুণ সাহায্য করে।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় আদা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম) বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীর সহজেই বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।
৩. হজমের সমস্যা ও বমি ভাব দূর করা
পেট ফাঁপা, বদহজম এবং অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা নিমেষেই কমিয়ে দেয় আদা। এটি পাচক রস উদ্দীপিত করে হজমপ্রক্রিয়া সহজ করে এবং যেকোনো ধরনের বমি বমি ভাব দূর করতে ভূমিকা রাখে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আদা খেলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন ও মেদ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। বিশেষ করে স্থূলতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ওজন নিয়ন্ত্রণে আদা বেশ কার্যকরী।
৫. বাতের ব্যথা উপশম
যারা অস্টিওআর্থারাইটিস বা বাতের ব্যথায় ভুগছেন, তাদের জন্য আদা ওষুধের মতো কাজ করে। এটি জয়েন্টের তীব্র ব্যথা এবং হাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।
৬. রক্তে শর্করা বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আদা খুবই উপকারী। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আদা বা আদার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে খালি পেটের রক্তে শর্করার মাত্রা (Fasting Blood Sugar) নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৭. পেটের জটিল রোগ নিরাময়
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) এবং ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD)-এর মতো পেটের ক্রনিক ও জটিল সমস্যাগুলোতে আদা দারুণ আরাম দেয়। এটি পেটের ভেতরের অস্বস্তি দূর করে হজমশক্তি বাড়ায়।
৮. কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো
রক্তের ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে আদার জুড়ি নেই। এটি শরীরের ট্রাইগ্লিসারাইড এবং ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল কমায়, আর একই সাথে শরীরের জন্য উপকারী এইচডিএল (HDL) বা ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।
