

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অনেক পুরুষের কাছেই ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা যৌন মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় উত্থান ধরে রাখতে না পারা একটি বিব্রতকর বিষয়। ফলে এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা খুব কমই হয়। অনেকেই এটিকে শুধুমাত্র যৌন সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এটি শরীরের আরও বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার আগাম সতর্কবার্তাও হতে পারে।
গবেষকদের মতে, ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ইডি) বা যৌন উত্তেজনার সময় লিঙ্গের পর্যাপ্ত উত্থান না হওয়া কিংবা উত্থান ধরে রাখতে না পারা শুধু যৌনস্বাস্থ্যের সমস্যা নয়; এটি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও ডিমেনশিয়ার মতো গুরুতর রোগের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে।
ইডিকে অনেকেই একটি নীরব মহামারি (silent epidemic) হিসেবে বর্ণনা করেন। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ৪০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের অর্ধেকেরও বেশি কোনো না কোনো সময়ে এই সমস্যায় ভোগেন। তবে খুব কম মানুষই বিষয়টি নিয়ে পরিবার বা চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন।
যখন এ বিষয়টি আলোচনায় আসে, তখন অনেক ক্ষেত্রেই এটিকে হাসি-ঠাট্টার বিষয় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, পুরুষের লিঙ্গ অনেক সময় তার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে। ইরেকটাইল ডিসফাংশন প্রায়ই ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগের পূর্বাভাস দিতে পারে।
রোমের ইউনিভার্সিটি অব রোম টর ভারগাটা-এর সেক্সোলজিস্ট এমানুয়েলে জান্নিনি ইডিকে "কয়লাখনির ক্যানারি"র সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ, বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেওয়ার আগেই এটি সতর্কবার্তা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরেকটাইল ডিসফাংশনের জন্য আরও ভালো স্ক্রিনিং ব্যবস্থা থাকলে চিকিৎসকেরা পুরুষদের অনেক গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করতে পারবেন। কিন্তু যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে অনীহার কারণে অনেক পুরুষ এই সুযোগ হারাচ্ছেন।
ইরেকটাইল ডিসফাংশনের প্রকৃত হার নির্ভর করে এটি কীভাবে সংজ্ঞায়িত ও পরিমাপ করা হচ্ছে তার ওপর। ফলে বিভিন্ন গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে এর হার ৩ শতাংশ থেকে ৭৬.৫ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
তবে প্রায় ১,২০০ জন পুরুষকে নিয়ে পরিচালিত একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ বছর বয়সী পুরুষদের ৩৯ শতাংশ নিয়মিত কিছু মাত্রায় ইডিতে ভোগেন, যা ৭০ বছর বয়সে বেড়ে ৬৭ শতাংশে পৌঁছে যায়।
অনেক দিক থেকে ইরেকটাইল ডিসফাংশন মূলত রক্তপ্রবাহের একটি সমস্যা।
লিঙ্গের ভেতরে দুটি স্পঞ্জের মতো গঠন থাকে, যাকে করপোরা ক্যাভারনোসা বলা হয়। সাধারণ অবস্থায় এগুলো শিথিল থাকে। একজন পুরুষ যৌনভাবে উত্তেজিত হলে মস্তিষ্ক থেকে সংকেত পাঠানো হয়, যা ধমনিগুলোর চারপাশের পেশিকে শিথিল করে এবং সেখানে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়।
রক্তে ভরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এই গঠনগুলো প্রসারিত হয় এবং লিঙ্গ থেকে রক্ত বের করে নেওয়া শিরাগুলোকে চেপে ধরে। ফলে রক্ত ভেতরে আটকে যায় এবং লিঙ্গ শক্ত ও স্ফীত হয়ে ওঠে।
অর্থাৎ, লিঙ্গে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে উত্থান অর্জন বা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
ইরেকটাইল ডিসফাংশনের পেছনে অনেক সময় মানসিক কারণও কাজ করে।
চাপ বা উদ্বেগের সময় শরীরে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে রক্তনালি সংকুচিত হতে পারে, যা করপোরা ক্যাভারনোসাকে পর্যাপ্তভাবে শক্ত হতে বাধা দেয়।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ টেস্টোস্টেরন উৎপাদনও কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে যৌন আকাঙ্ক্ষা ও উত্তেজনা হ্রাস পায়। একইভাবে হাইপোগোনাডিজমের মতো গ্রন্থিজনিত সমস্যাতেও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়, যা ইডির ঝুঁকি বাড়ায়।
এ ছাড়া মানসিক চাপ মানুষের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, ফলে যৌনতার প্রতি মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।
জান্নিনির মতে, বিবর্তনের দৃষ্টিকোণ থেকে এর একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে। বিপজ্জনক বা অনিরাপদ পরিবেশে শরীর যদি যৌন উত্তেজনা দমন করে, তাহলে শক্তি ও সম্পদ বেঁচে থাকার কাজে ব্যবহার করা যায়। তার ভাষায়, "যদি পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তাহলে প্রজনন না করাই গুরুত্বপূর্ণ।"
সূত্র: বিবিসি
