

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সন্তান কি মদের নেশায় বা মারাত্মক কোনো মাদকসেবে আসক্ত হয়ে পড়ছে? বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় পড়াশোনায় ব্যর্থতা, পারিবারিক পারিবারিক অস্থিরতা, সম্পর্কের বিচ্ছেদ বা বিষণ্ণতা থেকে ছেলেমেয়েরা এই মরণফাঁদে পা দেয়। শুরুতেই বাবা-মায়েরা কয়েকটি লক্ষণ দেখে সতর্ক হলে সন্তানকে রক্ষা করা সম্ভব।
যেসব লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন
আচরণগত ও সামাজিক দূরত্ব: যেসব বিষয়ে আগে আনন্দ পেত, সেগুলোতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, বন্ধুদের দল ও পরিবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে একা থাকা।
মেজাজের ঘন ঘন পরিবর্তন: অতিরিক্ত খিটখিটে মেজাজ, কথায় কথায় রাগ, চিৎকার-চেঁচামেচি, ভাঙচুর করা কিংবা তুচ্ছ কারণে বিষণ্ণ হয়ে পড়া।
পড়াশোনায় অমনোযোগ: হঠাৎ পড়াশোনার অবনতি, স্কুল-কলেজে অনিয়মিত হওয়া এবং দৈনন্দিন কাজের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলা।
গোপনীয়তা ও মিথ্যা বলা: ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহারে অতিরিক্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা, নিজের কাজকর্ম নিয়ে মিথ্যা বলা এবং হঠাৎ অতিরিক্ত হাতখরচ চাওয়া।
শারীরিক পরিবর্তন: সারারাত জেগে থাকা বা অতিরিক্ত ঘুমানো, খাবারে অনীহা, চোখ লাল হয়ে ফুলে থাকা, দ্রুত ওজন কমে বা বেড়ে যাওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা না মানা।
কথা বার্তায় অসংলগ্নতা: কথা গুছিয়ে বলতে না পারা বা নিজের ভাব প্রকাশে সমস্যা হওয়া।
বাবা-মায়ের করণীয়
সন্তান নেশায় জড়িয়েছে জানতে পারলে আতঙ্কিত না হয়ে বা রাগ না দেখিয়ে ধৈর্য ধরা জরুরি। অতিরিক্ত শাসন বা চেঁচামেচি করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
মনোরোগ চিকিৎসকদের মতে, সন্তানকে প্রহার করা বা ঘর থেকে বের করে দেয়ার হুমকি না দিয়ে সহমর্মিতার সঙ্গে বুঝিয়ে বলতে হবে। নেশার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাকে সঠিক ধারণা দিন।
যখন সে মাদকের প্রভাবে থাকবে না, তখন তার সাথে একান্তে শান্তভাবে কথা বলুন- তাকে জানান যে আপনারা তাকে সাহায্য করতে চান। প্রয়োজনে দেরি না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও কাউন্সিলরের পরামর্শ নিন।


