

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমরা অনেকেই লক্ষ্য করেছি, কোনো মানুষের মৃত্যুর পর দাফনের আগে তার নাক, কান এবং কখনো কখনো মুখে তুলা গুঁজে দেওয়া হয়।
আপাতদৃষ্টিতে এটিকে অনেকের কাছে কেবলই একটি প্রাচীন ঐতিহ্য বা কুসংস্কার মনে হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ।
ক্ষতিকর গ্যাস ও দুর্গন্ধ রোধ করা
মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মানবদেহে বিভিন্ন জৈবিক (Biological) পরিবর্তন শুরু হয়ে যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার পর শরীরের পরিপাকতন্ত্রে থাকা উপাদানগুলো ভেঙে মিথেন এবং হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো বিভিন্ন গ্যাস তৈরি হতে থাকে।
নাক ও কান খোলা থাকলে এই দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে, যা চারপাশের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তুলা দেওয়ার ফলে এই গ্যাস সহজে বের হতে পারে না।
তরল পদার্থের নিঃসরণ ঠেকানো
মৃত্যুর পর শরীরের ভেতরের পেশিগুলো পুরোপুরি শিথিল বা ঢিলে হয়ে যায়। এর ফলে ফুসফুস বা পাকস্থলী থেকে এক ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত তরল পদার্থ তৈরি হয়ে নাক বা মুখ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে চায়। তুলা এই তরল পদার্থকে শুষে নেয় এবং বাইরে ছড়াতে বাধা দেয়।
মৃতদেহ ফুলে যাওয়া রোধ করা
নাক, কান বা মুখের ছিদ্রগুলো খোলা থাকলে বাইরের বাতাস সহজেই শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। ভেতরের গ্যাস আর বাইরের বাতাসের বিক্রিয়ায় মৃতদেহ খুব দ্রুত ফুলে উঠতে শুরু করে।
তুলা দিয়ে ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিলে বাইরের হাওয়া ভেতরে ঢুকতে পারে না, ফলে মৃতদেহটি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
জীবাণু ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা
মৃতদেহের তরল বা গ্যাসের গন্ধে মাছি, পোকা-মাকড় এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত আকৃষ্ট হয়। নাক-কানে তুলা দেওয়া থাকলে মাছি বা পোকা ভেতরে ঢুকতে পারে না।
এতে মৃতদেহে কোনো সংক্রমণ ছড়ায় না এবং মৃতদেহটি জীবাণুমুক্ত ও সুরক্ষিত থাকে।
মৃত্যুর পর নাক, কান ও মুখে তুলা দেওয়ার বিষয়টি কোনো অন্ধবিশ্বাস নয়। বরং মৃতদেহকে বিকৃত হওয়া থেকে বাঁচাতে, দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধ করতে এবং চারপাশের পরিবেশকে জীবাণুমুক্ত রাখতেই বিশ্বজুড়ে এই বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিটি অনুসরণ করা হয়।
